গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৬ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

যুদ্ধবিরতি ভেঙেই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন, নিহত ৬৯ হাজার


ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (৮ নভেম্বর) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯,১৬৯ জনে পৌঁছেছে।


আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পরেও নানা অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার উত্তর সীমান্তে কথিত 'ইয়েলো লাইন' অতিক্রম করার অভিযোগ তুলে তারা বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর নির্ধারিত এই 'ইয়েলো লাইন' আসলে একটি অদৃশ্য সীমা, যার অবস্থান সম্পর্কে কেউ জানে না। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন। এছাড়া, অন্যান্য এলাকাতেও হামলা চলছে এবং নেতানিয়াহু বাহিনীর পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে শিশুরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েল প্রায় দুই লাখ টন বোমা গাজায় ফেলেছে, যার মধ্যে এখনো ৭০ হাজার টন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।



গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় ভয়াবহ দূষিত পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় পাম্প স্টেশন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুরগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। এই দূষিত পানি আশপাশের বসতি ও আশ্রয়শিবিরে ছড়িয়ে পড়ছে।


স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পানির স্তর ৬ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা দুর্গন্ধ, মশা এবং মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ভূগর্ভস্থ পানির বেশিরভাগ অংশই এখন মারাত্মকভাবে দূষিত।



এদিকে, পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বাড়ছে। জেনিনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাবা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে, যাদেরকে ইসরায়েলি সেনারা সহায়তা করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস থেকে পশ্চিম তীরের ৭০টি গ্রামে ১২৬টি সহিংস হামলা হয়েছে। এই সহিংসতায় চার হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ পুড়ে গেছে।