প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ , ০৭:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘যমুনা উপজেলা’ গঠনের দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যেই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যা চরাঞ্চলের প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু প্রশাসনিক সুবিধার প্রশ্ন নয়—বরং তাদের জীবনমান ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হতে পারে।
এই দাবিকে সামনে রেখে মাঠে কাজ করছে ‘যমুনা উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ’। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী মনসুরনগর, চরগিরিশ, তেকানি, নিশ্চিন্তপুরসহ নদীর পূর্বপাড়ের ছয়টি ইউনিয়নে হাটে-বাজারে গণসংযোগ কর্মসূচি চালায় সংগঠনটি। পরিষদের সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
“যমুনা উপজেলা চাই”—এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে তারা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সুমন মিয়া বলেন,“যমুনা উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এতে স্থানীয় উন্নয়ন আরও গতি পাবে। শিশু ও প্রবীণদের আর দূরবর্তী অফিসে যেতে হবে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো—সবক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।”
গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “যমুনা উপজেলা গঠিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ঘটবে।”
তিনি আরও জানান, “বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই যমুনা উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, যমুনা নদীর চরের ছয়টি ইউনিয়ন—মনসুরনগর, চরগিরিশ, তেকানি, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও নাটুয়াপাড়া—ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কাজিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রশাসনিক সেবা পেতে তাদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। নতুন উপজেলা গঠিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।