গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

সাকিব হাসানের কবিতা

প্রিয় কৌতূহল

‎তুমিও কি ভিজেছিলে সেই অভিমানের বৃষ্টিতে?
‎আলো মাখা বিকেলের ফর্সা চাদরে ঢেকেছিলে কি নবারুণ অবয়ব?
‎কি যে নীমিলিত নয়নে কেঁদে ওঠে হৃদয় কোহর!
‎সে-ও কি খেয়াল করেছিলে বিষাদের ছন্দ ফাঁকে

উচ্ছ্বাসে হত-বিহ্বল হয়ে যাওয়া তীব্র রোদের বেগুনি আভা

‎পিছু নেয়া শ'খানেক পুলকিত পাতিকাক আর
‎হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখা কিছু শীতল মানুষ!
‎ছিলো কি এরাও দৃষ্টিগোচরে?
‎ভাবনার নরম কুঁড়েঘরে সকাল সন্ধ্যার বর্ণিল আলোকসজ্জায়,
‎কখনো কি নজরে এসেছিলো একটি মানবকঙ্কাল?
‎ভীষণ খরুচে,পকেট বিহীন প্রতিনিধির ফ্যালফ্যাল তাকানো,
‎বাতাসের তীব্রতায় উৎসব খুঁজে পাওয়া স্নিগ্ধ সমুদ্রের প্রলয় নৃত্য,
‎এসবেও কি খোঁজা হয় অমর প্রেম?
‎ধুলোয় ঢেকে ম্লান হয়ে যাওয়া স্মৃতির শহরে,
‎এখনো কি ভাবো ফেরার কথা?
‎তুমিও কি বাঁচো অগাধ বিশ্বাসে,বিষাদের করুণ সুরে?

যেভাবে আমি!



‎দুঃস্বপ্ন

‎বৈকালে শরতের শিষ্য হয়ে আসা মেঘ,
‎সাঝঘরে ফিরে যায় চোখের পলকে।
‎তুলো মেঘ মুখভার করে বিষন্ন হলে,
‎হাজার ফুটা অশ্রু হয়ে ঝরে যায় আকাশের কান্না।
‎নিশিযাপন কালে রক্তের কনসার্ট গাওয়া শীতল প্রেমিককে পাঠানো

‎প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের মোহরাঙ্কিত খন্ড চিঠির দূত
‎সমস্ত হিসেব চুকিয়ে তারপর জানান দেয়,
‎চিহ্নিত কদম গাছে ঝুলে থাকা ফর্সা দেহের।
‎আনকোরা হাতে লেখা একপাতার চিঠি,
‎দূতাবাসে এসেছিলো হয়তো বছর তিনেক আগে।
‎কণ্ঠে ছিলো চাপা উত্তেজনা,যেন হিমালয় ধ্বসে আসা দুঃস্বপ্ন।
‎হাজার কাবেরির গন্ধ মাখা নীল তোয়ালেটা,
‎এখনো শোভা পায় হেঁয়ালির সর্গ সিংহাসনে।


বিবাদ

‎সভ্যতার হুড়কার নিশানায় চলছে নব্য নেপোলিয়নদের তীব্র আক্রমণ,
‎নিরাকার শ্রাব্য ধ্বনির সঙ্গী কেবল নিরবিচ্ছিন্ন মৌনতা।
‎পূর্ণতায় নোঙর করা মাঝি জেগে থাকে নিশিতের অভ্যন্তরে।
‎নাটাইয়ের সন্ধানে ভবানী প্রসাদের চামচার যে হাপিত্যেশ
‎জোয়ালের পিছে তার ছিটেফোঁটা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
‎অকালের জোয়ারে ভেসে আসা পাল,
‎তার হাওয়া ধারণক্ষমতা আর কতোই হতে পারে?
‎তারই গড্ডলিকাপ্রবাহে ছুটছে হতভম্বের দল!
‎বুঝবার ক্ষমতাই বা ক'জনে লালন করে
‎মৃদু জোয়ারেই উচ্চাভিলাষী জেলের,
‎চর ছাইড়া যাবার তোড়জোড় দেখলেই
‎গোবর গণেশ ব্যতীত সবাই আন্দাজ করতে পারে এদের চৈতন্য সম্ভার।
‎দৃষ্টান্তের অপেক্ষায় থাকা ভদ্রমহলের বিব্রত অধিষ্ঠান,
‎অবিমিশ্রিত প্রনয়কালের নাটকীয়তার মতো।
‎তারাবাতির ইতিহাস তাদের অক্ষির সম্মুখেই
‎তবুও কৃষ্ণকায় বলয়ের নিশানা ভেদ করা হয়ে ওঠেনি আজও।
‎কালের অভিমুখে তোমাদের যে রাইফেল সাঁজোয়া অভিযান,
‎তার বাঙ্কার ঘিরে আছে নির্জনতা,
‎নিরালার উৎপাতে অতিষ্ঠ জলপ্রপাত।
‎বেশ্যার নাভিতে সুখ খুঁজে নেওয়া সুশীল আবরণী সমাজ,
‎শুঁড়িখানায় জান্নাতের বাণী আউড়াইতে অভ্যস্ত হয়া আছে।
‎প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বাভাস তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় কি না কে জানে!
‎নইলে আপত্তি আর অনাপত্তির নেহাৎ অন্যায় দেখেও বোধের জগৎ ঘুমায় কেন?


‎অবান্তর বিজ্ঞাপণ

‎পৃথিবীর সব ব্যস্ত বিবাদ, যত উপেক্ষা, যত অপারগতা,
‎আঁকড়ে ধরে আছে আমি ও আমাদের নিস্পৃহতাকে,
‎ফাল্গুনী হাওয়ায় উড়িয়ে নেয়া সুখের,তাই সন্ধান মেলা দায়।
‎নিস্প্রভ হয়ে থাকে মিলনায়তনের লাল কৃষ্ণচূড়া,
‎যেন অজস্র সংঘাতে ক্ষতবিক্ষত তার সমস্ত শরীর

‎তাদেরও অনেক গল্পবলা বাকী,
‎কিছু প্রেমের গল্প আর কিছু জোৎস্নামাখা বিরহের,
‎ঠিক আমাদের মতো!
‎বিক্ষোভ,মিছিল, প্রতিবাদ আর ভয়ঙ্কর একটা দাঙ্গার পরে,
‎রক্তিম শিমুলগুলো পায়ে পৃষ্ঠ হতে হতে যেমন জেনে যায়

তার সৌন্দর্য কেবলই মগডালে,
‎হয়তো সৃষ্টিকর্তাকে দায়ী করে বলে,

কি হতো একটু গন্ধ দিলে আমার গায়ে?
‎অথচ তার জানা নেই,স্রষ্টা যেভাবে চান সৃষ্টি সেভাবেই সুন্দর।
‎মিলিয়ে দেখো,ঠিক আমাদেরই মতো!
‎যে জটিল শূণ্যতার ধাঁধায় আটকে আছি আমরা সবাই
‎কিছু নেই আর আমাদের,কেবল ওইটুকু দিবাস্বপ্ন ব্যতীত
‎যা আমরা দেখতাম নিভৃত হিয়ায়,দুইজোড়া চর্মচক্ষু বুজে।
‎দুর্দমনীয় যন্ত্রণা জেনেও আমরা যার নাম দিয়েছিলাম "ভালোবাসা "
‎গ্যাস ব্যতীত কিছু নেই জানা সত্বেও দূরের ঐ অস্পষ্ট ছাদকে যেভাবে আকাশ বলা হয়,
‎নির্বোধ শ্লোগানে মুখরিত তেমনই একটা বিজ্ঞাপন হোক।