গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ০১:০৩ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

টাইফয়েড টিকাদান সম্পন্ন: যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সাফল্য


জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ যমুনা উচ্চ বিদ্যালয় বুধবার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের সাক্ষী হলো। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় পরিচালিত জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের একটি পর্ব এদিন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) প্রদান করা হয়।



বিদ্যালয়ের মাননীয় প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল কালাম আজাদ-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় এই টিকাদান পর্ব দুপুর ২:০০ টা থেকে শুরু হয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা যেন কোনো প্রকার ভয় বা অস্বস্তি ছাড়াই টিকা গ্রহণ করতে পারে।


শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। টিকাগ্রহীতা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা সারি এবং টিকা দেওয়ার পর বিশ্রামের জন্য বিশেষ সুব্যবস্থা রাখা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা দক্ষতার সাথে টিকা প্রদান করেন এবং তাদের সহায়তার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও সেচ্ছাসেবক দল অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে।



টিকাদান শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদের টাইফয়েড রোগের কারণ, এর ঝুঁকি এবং এই জীবন রক্ষাকারী টিকার উপকারিতা সম্পর্কে সহজভাবে অবহিত করা হয়।


প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার বিনামূল্যে যে জীবন রক্ষাকারী টিকা দিচ্ছে, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই সবাই সচেতন হয়ে এই কর্মসূচি সফল করুক।"


অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সহকারীদের পক্ষ থেকে টিকার নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মো: আশরাফ হোসেন ও মারুফা সুলতানা, স্বাস্থ্য সহকারীদ্বয়, জানান যে বিগত ১২ তারিখ থেকে টিকা প্রদানের কার্যক্রম চলছে এবং তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদেই গ্রহণ করা যায়।


যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক কার্যক্রমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেছে।