প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২৫ , ০২:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
সামান্য অর্থের লোভে বা বন্ধুত্বের খাতিরে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্যের লেনদেনের জন্য ব্যবহার করার বিষয়ে মারাত্মক সতর্কতা জারি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপসহকারী পরিচালক সালমান আশরাফ। সম্প্রতি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি তরুণ সমাজকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা কলেজের একজন জুনিয়র ছাত্র তার বিদেশযাত্রার আগে সঞ্চয়ের ১০ লক্ষ টাকা নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেখেছিলেন। ঠিক সেই সময়েই তার ক্যাম্পাসের অন্য এক জুনিয়রের বন্ধু তার কাছে আসে। সে জানায়, তার ফ্রিল্যান্সিংয়ের ১,০০০ ডলার আসবে এবং সেই টাকা গ্রহণের জন্য ওই ছাত্রের অ্যাকাউন্ট নাম্বার ব্যবহার করতে চায়।
ছাত্রটি সরল বিশ্বাসে অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিলে টাকাটি তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়। কিন্তু এর পরপরই ব্যাংকের পক্ষ থেকে ছাত্রটির অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ (লেনদেন বন্ধ) করে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ছাত্রের অ্যাকাউন্টে টাকাটি এসেছিল, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিনে আরও ৩৬৫টি সন্দেহজনক (Suspicious) ট্রানজেকশন হয়েছিল। এই ব্যাপক সংখ্যক সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এটিকে মানি লন্ডারিং বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনা হিসেবে সন্দেহ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেয়। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপসহকারী পরিচালক সালমান আশরাফ এই ঘটনাটি সচেতনতার জন্য শেয়ার করে জোর দিয়ে বলেন:
"আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এমন কোনো জুয়া খেলবেন না যা আপনাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পিন, ওটিপি—এগুলো আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। এই ক্ষেত্রে ছাত্রটির নিজের সঞ্চয় ঝুঁকির মুখে পড়েছে, কারণ তার অ্যাকাউন্ট মানি লন্ডারিং-এর মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তের আওতায় চলে এসেছে।"
সচেতন থাকার উপায়
ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন: কোনো বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তির ফ্রিল্যান্সিং বা অন্য কোনো উৎস থেকে বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণের জন্য নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেবেন না।
ঝুঁকি বুঝুন: অবৈধ বা সন্দেহজনক আর্থিক কার্যকলাপের (যেমন মানি লন্ডারিং) জন্য ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের মালিক হিসেবে আপনিও ফেঁসে যেতে পারেন, এমনকি যদি আপনি সেই অপরাধে সরাসরি জড়িত না-ও থাকেন।
নিরাপত্তা বজায় রাখুন: আপনার অ্যাকাউন্ট, পিন, ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কখনোই কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
তরুণ প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে, দ্রুত অর্থ উপার্জনের বা বন্ধুকে সাহায্য করার এই সরল প্রবণতা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।