প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫ , ০৫:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। এর মধ্যেই একটি বড় খবর এলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিজেদের কোনো প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে না দেশটি। বুধবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের চেয়ে ভিন্ন। আর এই নীতিগত পরিবর্তনের কারণেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক না পাঠালেও একেবারে বিপরীত চিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিক থেকে। তারা বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বেশ আগ্রহী। এরই মধ্যে প্রায় একশত পঞ্চাশ জনের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইইউ। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে চায়। গত সোমবার ইইউর পক্ষ থেকে এই সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়াও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ইইউর দেওয়া খসড়াটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের কিছু জিজ্ঞাসার জবাবও দেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই ইইউর পর্যবেক্ষক দল ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আসবে।
উল্লেখ্য, এর আগে দুই হাজার চব্বিশ সালের সাতই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো বর্জন করেছিল। সেই একতরফা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) নামের দুটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। এমনকি, সেই নির্বাচনের আগে দুই হাজার তেইশ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্তকারীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
সুতরাং, একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় আগ্রহ আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।