ভোটের মাঠে নামছে বিএনপি, এক মাসে প্রার্থী ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দলটি প্রায় ২০০ আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পথে। জানা গেছে, এক মাসের মধ্যেই তারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে এবং প্রচারণা শুরু করার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের স্থায়ী কমিটি। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে, যা দেখে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি এবার বিএনপি দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি নিতে চাইছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়ের পর দলটি আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয়।
এর কারণ হিসেবে নেতারা জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমে পড়েছে। বিএনপি নেতারা আশঙ্কা করছেন, তারা যদি কেবল আন্দোলনে ব্যস্ত থাকে, তাহলে জামায়াত মাঠে বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রার্থীদের সিভি দেখা হচ্ছে, সাক্ষাৎকার চলছে এবং এলাকাভিত্তিক জরিপও চলছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে বেছে নেওয়া। আমরা এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
দলীয় শৃঙ্খলা ও আসন ভাগাভাগি
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাতে মনোনয়ন নিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল না হয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তা সবাইকে মেনে নিতে হবে। যেসব আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন, তাদের সঙ্গেও বৈঠক করা হচ্ছে।
এদিকে, বিএনপি জোটের শরিকদের জন্য প্রায় ৫০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে। জোট বড় হলে আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণেই বিএনপি প্রাথমিকভাবে নিজেদের জন্য ২০০টি আসন বেছে নিচ্ছে। গত বছর তৃণমূলের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় বিএনপি সমমনা দলের ছয় নেতাকে সমর্থন দিতে বলেছিল, যাদের মধ্যে আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। সম্প্রতি আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ববি হাজ্জাজকেও যথাক্রমে ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৩ আসনে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সততা, এবং আন্দোলনে ভূমিকা, এসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে, যারা ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য, তাদের পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থীও প্রস্তুত রাখা হবে।
এছাড়াও, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি এবং খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।