প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ১১:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধের মানচিত্রে হঠাৎ যেন বিস্ফোরিত হলো এক গোপন তথ্য বোমা। ভারত যে “অপারেশন সিদুর” অভিযানের কৃতিত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল, সেটি নাকি আদতে তাদের একক সাফল্যই নয়। বরং দাবি উঠেছে, এর পেছনে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের ছদ্মবেশী হামলা। এতদিন যা গোপনে ছিল, এখন তা প্রকাশ্যে চলে আসায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিস্ফোরণ।
ভারতীয় সেনারা গর্বের সঙ্গে জানিয়েছিল, তারা ১০০ ঘণ্টা ধরে প্রতিহত করেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। কিন্তু অস্ত্রশস্ত্রের তালিকা খতিয়ে দেখলেই বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযানে ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রই ছিল ইসরাইলি।
বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে হারপি ড্রোন—সবই এসেছে ইসরাইল থেকে। বিশেষত হারপি ড্রোন, যা শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করলেই ছুটে গিয়ে মুহূর্তে তা ধ্বংস করতে পারে। দিন কিংবা রাত—নয় ঘণ্টা অবিরাম আকাশে টহল দেওয়ার ক্ষমতা পাকিস্তানি বাহিনীকে ফেলেছিল দমবন্ধ পরিস্থিতিতে। অন্যদিকে ভারত-ইসরাইল যৌথভাবে তৈরি বারাক-এইচ সিস্টেম ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজ দিয়ে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম—যা ভারতীয় সেনাদের দিয়েছে বাড়তি শক্তি।
এই সাফল্য লুকাননি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি খোলাখুলিই প্রশংসা করে বলেছেন,
“আমরা যা দিয়েছি, তা বাস্তব যুদ্ধে অসাধারণভাবে কাজ করেছে।”
এমনকি জেরুজালেমে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জেপি সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ গল্পের নেপথ্যে রয়েছে আরও ভয়ঙ্কর চিত্রনাট্য। তাদের মতে, ভারতকে আড়াল করে ইসরাইল আসলে নেমেছে পাকিস্তানকে দুর্বল করার দীর্ঘমেয়াদি মিশনে। এমনকি অপারেশন সিদুরে সরাসরি ইসরাইলি পাইলটদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, মুসাদের মতো শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইসরাইল ধীরে ধীরে পাকিস্তানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে। শুধু তাই নয়, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ইসরাইলি প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ভারত হয়তো হয়ে উঠতে পারে মুসাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর।
সব মিলিয়ে, অপারেশন সিদুরের রহস্য ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি শুধু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককেই নাড়া দিচ্ছে না, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণকেই করে তুলছে আরও জটিল ও অনিশ্চিত।