প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০১:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
‘আগের ম্যাচের চেয়ে পাকিস্তান এবার অন্তত একটু ভালো খেলেছে’, এমন একটি প্রশ্ন ছুটে গিয়েছিল সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দিকে। জবাবে ভারতীয় অধিনায়ক সবার জন্য দিলেন একটি পরামর্শ, ভারত-পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন যেন আর না করা হয়। কারণ, এই লড়াইয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই খুঁজে পান না তিনি।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াইয়ে ভারতের একতরফা দাপট চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এবারের এশিয়া কাপেও দুই ম্যাচে ভারতকে সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি পাকিস্তানিরা। ২০২২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের জয়ের পর সব সংস্করণ মিলিয়ে ভারত জিতে নিল টানা সাত ম্যাচ।
টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের জয় হয়ে গেল ১২টি, পাকিস্তানের মোটে ৩টি।
ওয়ানডে ইতিহাসে দুই দলের লড়াইয়ে এখনও এগিয়ে পাকিস্তান। তবে গত ২০ বছরে বদলে গেছে চিত্র। ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের জয় ছিল ৬২টি, ভারতের ৩৫টি। ২০০৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত জিতেছে ২৩টি, পাকিস্তান ১১টি। দুই দলের সবশেষ টানা ছয় ওয়ানডেতে জিতেছে ভারতই।
এবারের এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচে ১২৭ রান তুলতে পেরেছিল পাকিস্তান। সুপার ফোর পর্বে রোববার তারা তোলে ১৭১ রান। যদিও শেষ পর্যন্ত হারতে হয় ঠিকই।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সুরিয়াকুমারকে প্রশ্ন করা হয়, আগের ম্যাচের চেয়ে এ দিন পাকিস্তানের মান একটু উন্নত হয়েছে কি না। ক্রিকেট মাঠের মতো এখানেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে গুঁড়িয়ে দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
“এই প্রশ্নে আমি একটি কথা বলতে চাই, আমার মনে হয় আপনাদের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেওয়া।”
“মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে একই ব্যাপার। আমার মতে, দুটি দল যদি ১৫-২০ বার মুখোমুখি হয় এবং সেই লড়াইয়ের ফল থাকে ৭-৭ বা ৮-৭, তাহলে সেটাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে। কিন্তু যদি ১৩-০ বা ১০-১ হয়… আমি জানি না, এখানে পরিসংখ্যান কেমন। তবে এটি এখন আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। তবে হ্যাঁ, আমরা ওদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছি।”
দুবাইয়ে রোববার ম্যাচের প্রথম দিকে দাপট ছিল পাকিস্তানেরই। প্রথম ১০ ওভারে ৯১ রান তুলে ফেলেছিল তারা স্রেফ ১ উইকেট হারিয়ে। তবে এরপরই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। পরের সাত ওভারে মাত্র ৩৮ রান তুলতে পারে সালমান আলি আগার দল। টানা ৪০ বলে আসেনি বাউন্ডারি!
সুরিয়াকুমারের মতে, ম্যাচের ভাগ্য বদলে গেছে সেই মোড় থেকেই।
“আমার মতে, ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল প্রথম ইনিংসের প্রথম পানি পানের বিরতি। ওই বিরতির পর সবার শরীরী ভাষা বদলে গেছে। সাধারণত দেখা যায়, পাওয়ার প্লে শেষে খেলার চিত্র বদলায় অনেক সময়। তবে আজকে বদলেছে ১০ ওভারের পর।”
“বোলাররা তাদের লাইন-লেন্থ বদলেছে, উপলবব্ধি করতে পেরেছে পরিস্থিতির দাবি এবং আরেকটু বেশি প্রাণশক্তি দেখিয়েছে। স্পিনাররা ভালো বল করেছে। আমার চোখে, টার্নিং পয়েন্ট বলতে পারেন শিভাম দুবের স্পেলটি।
৭২ রানের জুটি গড়া সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবের উইকেট দুটি নিয়েছেন অনিয়মিত বোলার দুবে। ওই সময়টায় আঁটসাট বোলিং করেছেন দুই স্পিনার ভারুন চক্রবর্তী ও কুলদিপ ইয়াদাভ।