গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ , ১০:৫৩ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত


দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাতের পর অবশেষে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। তুরস্কে গত ৫ দিনের বৈঠকের পর উভয় দেশ এই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবার বৈঠক করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগ পর্যন্ত যাতে কোনো ধরনের সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে উভয় দেশের সরকার সজাগ থাকবে বলেও সরকারি প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় এবং বর্তমানে তা তলানিতে ঠেকেছে।

এই অবনতির প্রধান কারণ হলো পাকিস্তানের তালেবানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের দায়ে পাকিস্তানের সরকার এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ করলেও তারা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়াকে ঘাঁটি করে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে।

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবানরা টিটিপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগানিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


  • ৯ অক্টোবর: পাকিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ এবং দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।

  • ১১ অক্টোবর: পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে আফগান সেনাবাহিনী সীমান্তে অবস্থিত পাকিস্তানের সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পালটা জবাব দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীও।

  • ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই সংঘাতে ২ শতাধিক আফগান সেনা এবং ২৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।

  • ১৫ অক্টোবর: দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।


সংঘর্ষ বন্ধের পর ১৮ অক্টোবর থেকে দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। পরে এই বৈঠক স্থানান্তরিত হয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে, যেখানে ২৫ অক্টোবর থেকে আলোচনা শুরু করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এই আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে কাতার এবং তুরস্ক

মাঝে ২৮ অক্টোবর বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলেও মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় তা এড়ানো সম্ভব হয়। ২৯ অক্টোবর থেকে ফের আলোচনা শুরু হয়ে ৩০ অক্টোবর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।