প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:৪৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি সংসদীয় আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেন। এতে খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন বলে জানান দলের মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনসমূহ
বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭: জিয়া পরিবারের ঘাঁটি
খালেদা জিয়ার স্বামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি বগুড়ায়, যা ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। খালেদা জিয়া সেই ১৯৯১ সাল থেকে শ্বশুরবাড়ি বগুড়ার দুটি আসনে নির্বাচন করে আসছেন। বগুড়া-৬ (সদর) এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাহজাহানপুর) আসনে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি।
বগুড়া-৬ আসনে এবার ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে খালেদা জিয়ার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বগুড়া-৭ সংসদীয় আসনের বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি ছয়বার (এর মধ্যে খালেদা জিয়া পাঁচবার) জয় পেয়েছে। খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া-৬ আসন নিজের হাতে রেখে বগুড়া-৭ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। এই আসনে চারবারের মধ্যে একবার (২০০৮ সালের উপনির্বাচনে) বিজয়ী হয়েছেন মওদুদ আহমদ। বাকি তিনবার (১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের) জয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
ফেনী-১: পৈতৃক আদি নিবাসের আসন
ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন। এটিও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৩ সালের পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিগত ৫০ বছরের নির্বাচনে বেশিরভাগ সময় বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফেনী জেলায় খালেদা জিয়ার আদি পৈতৃক নিবাস। এ কারণে নির্বাচন এলে এখানে স্লোগান ওঠে ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’।
১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৬ (জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তাঁর ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দার। ২০১৮ সালে দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া এখানে প্রার্থী হতে পারেননি।
দিনাজপুর-৩: প্রথমবারের মতো প্রার্থী
খালেদা জিয়ার জন্ম, শৈশব ও পড়াশোনা দিনাজপুর শহরে হলেও এর আগে তিনি কখনো এখান থেকে প্রার্থী হননি। দিনাজপুর-৩ আসনটি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখান থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার বড়বোন খুরশীদ জাহান হক প্রার্থী হন। ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপি তিনবার—১৯৭৯, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জয়লাভ করে।
১১ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়ার সাতটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সভা হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। সেই সভায় মোট ২২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভার তিন দিন পর পাঁচজনকে ফোন করে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ নিয়ে কাউকে ফোন দেওয়া হয়নি। তখন থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল, হয়তো এ দুটি আসনে ‘জিয়া পরিবারের’ কেউ প্রার্থী হবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে নির্বাচন করেছেন, তবে কখনো হারেননি।