গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১২:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও খাওয়ার উপায়

থানকুনি পাতা (যাকে  'ব্রাহ্মণী শাক' নামেও ডাকা হয়) বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও চীনা চিকিৎসাশাস্ত্রে এটিকে বিশেষ ভেষজ হিসেবে ধরা হয়। পেটের অসুখ, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, ক্ষত নিরাময় ও ত্বকের যত্নে থানকুনি পাতার ব্যবহার বিশেষভাবে সুপরিচিত।


পুষ্টিগুণ:
প্রতি ১০০ গ্রামে থানকুনি পাতা প্রায় ৩০–৩৫ ক্যালরি, ২–৩ গ্রাম প্রোটিন, ২ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্রাইটারপিনয়েড) রয়েছে। এই উপাদানগুলো শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


থানকুনি পাতার উপকারিতা:


  1. 1. পেট ও হজমের জন্য: গ্যাস, অম্লত্ব ও ডায়রিয়ার সমস্যা কমায়।

  2. 2. মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি: রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখে।
  3. 3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দ্বারা শরীরকে ফ্রি-র‌্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে।

  4. 4. লিভারের যত্ন: লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে ও বিষাক্ত উপাদান দূর করে।
  5. 5. হৃদরোগ প্রতিরোধ: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  6. 6. ত্বকের যত্ন: প্রদাহ কমায়, ব্রণ নিরাময় ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
  7. 7. মন ও ঘুম: উদ্বেগ ও অনিদ্রা কমাতে সহায়ক।

  8. 8. বাত ও প্রদাহজনিত রোগ: হাড় ও শরীরের প্রদাহ কমায়; পেট ও মূত্রনালী সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।
  9. 9. চুলের যত্ন: চুল পড়া রোধ ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার পদ্ধতি:

  • থানকুনি পাতা খাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এটি কাঁচা বা সেদ্ধ শাক হিসেবে খাদ্যতালিকায় ব্যবহার করা যায়। চাইলে পাতা থেকে রস বের করে অল্প মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়। এছাড়াও চাটনি, ভর্তা বা সালাদে থানকুনি পাতার ব্যবহার জনপ্রিয়। 


সতর্কতা:

  • ভেষজ ওষুধ তৈরিতেও এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বমি, ডায়রিয়া বা মাথা ঘোরা সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি একটানা ব্যবহার লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।