গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৪১ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

থালাপতি বিজয়ের হুংকারে উত্তাল ভারত, মোদির পতন শুরু!

জঙ্গলে যত শিয়াল থাকুক না কেন রাজা সবসময় সিংহই—এভাবেই বক্তব্য দিয়ে মাঠ কাঁপালেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুতে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করে তিনি শুরু করেছেন নতুন এক অধ্যায়। তার এই রাজনৈতিক অভিষেককে অনেকে শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন না, বরং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও দেখছেন। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য এটি এক নতুন সংকেত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বিজয়ের হাত ধরেই কি শেষ হবে মোদির দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য?


দক্ষিণ ভারতে বিজেপির বিস্তার এখনো তুলনামূলক দুর্বল। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা সীমিত ছিল সবসময়। এখানকার ভোটাররা মূলত আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতিই বেশি আস্থা রেখেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিজয়ের মতো একজন জনপ্রিয় তারকার রাজনীতিতে পদার্পণ দক্ষিণ ভারতের ভোটের বাজারে নতুন মোড় আনতে পারে। যা বিজেপির বিস্তারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


জাতীয় পর্যায়ে মোদির জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে তার সরকারের নেওয়া বিতর্কিত নীতিমালা এবং বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান ঐক্য বিজেপিকে চাপের মুখে ফেলেছে। এরই মধ্যে যদি দক্ষিণ ভারত থেকে বিজয়ের মতো বিকল্প নেতৃত্ব উঠে আসে তবে তা মোদি ও তার দলের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হতে পারে।


যদিও বিজয়ের দল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ইতোমধ্যেই তরুণ সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি শুধু একজন তারকা নন, বরং সমাজ সচেতন ও শিক্ষাবান্ধব বক্তব্যের জন্যও জনপ্রিয়। এই বৈশিষ্ট্য তাকে দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠতে পারে।


অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতে বিজেপির অবস্থান আগেও সীমিত ছিল। কংগ্রেস, ডিএমকে, টিডিপি’র মতো আঞ্চলিক দলগুলো নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছে। এখন যদি বিজয়ও রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন, তবে বিজেপির আঞ্চলিক স্বপ্ন আরো কঠিন হয়ে উঠবে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, থালাপতি বিজয়ের রাজনীতিতে প্রবেশ ভারতীয় রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যদিও এখনই মোদির পতনের কথা বলা যায় না, তবে বিজয়ের আগমন যে বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন ভারতের রাজনীতিতে বড় রূপ নিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।