গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:০০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

স্যার আমাকে বাঁচান, সুজনকে বলেছিলেন জাহানারা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলম। দীর্ঘ চার বছর আগে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ ১৩ পৃষ্ঠার একটি চিঠি তিনি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের কাছে জমা দেন। সেই চিঠি ঘিরে এখন উত্তপ্ত পুরো ক্রিকেট অঙ্গন।


চিঠিতে জাহানারা অভিযোগ করেন, নারী দলের ম্যানেজার ও নির্বাচক মনজুরুল ইসলাম তার সঙ্গে অকারণে রূঢ় আচরণ করেন, মাঠে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং দল থেকে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়। শুধু তাই নয়, নারী দলের তৎকালীন ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ এবং কয়েকজন কোচের বিরুদ্ধেও বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন তিনি।


জাহানারার অভিযোগের শেষ পৃষ্ঠার অভিযোগ হুবহু তুলে ধরা হলো– 


‘আমাকে মানসিকভাবে (মেন্টালি) টর্চার থেকে বাঁচান দয়া করে স্যার, কিভাবে দল গঠন হবে কাকে অধিনায়ক করা হবে, কারা কোচিং স্টাফে থাকবে, কারা অফিশিয়াল থাকবে তা সম্পূর্ণ বিসিবির ব্যাপার। আমি শুধু আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছুটা লিখে জানলাম। আমি শুধু আমার দেশের জন্য পারফর্ম করতে চাই স্যার।


এটা কোনো অভিযোগ নয় স্যার, এটা একটা নোট। ভবিষ্যতে যদি কোনো কঠিন পরিস্থিতি এর কবলে পড়ি, তো আমার বিশ্বাস, আমার বিসিবি অবিভাবক আমাকে সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ।


একটা বিশেষ অনুরোধ স্যার, যদি কোনো খেলোয়াড় বা কোনো অফিশিয়াল আমার সম্পর্কে কোনো নেগেটিভ কথা বলে তো দয়া করে আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবেন স্যার। আমি সত্য কথা বলব স্যার ইনশাআল্লাহ। আমি সবসময় সৎ থাকার চেষ্টা করি স্যার।


অনেক ধন্যবাদ স্যার ধৈর্য্য নিয়ে আমার লেখা পড়ার জন্য। দয়া করে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দেখবেন স্যার।


আপনার একান্ত অনুগত,


জাহানারা আলম


নারী ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল।’


চিঠির শুরুতে জাহানারা লেখেন, তৎকালীন কো-অর্ডিনেটর সরফরাজ বাবু তাকে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে খেলার অনুরোধ করেছিলেন। বাবু নাকি তাকে বলেছিলেন, দেখেন আপা, সামনে বড় টুর্নামেন্ট। দলে যদি কোনো ফাটল থাকে, সেটা সিমেন্ট লাগানোর দায়িত্ব আপনাদের সিনিয়রদের।


জবাবে জাহানারা নাকি বলেন, তৌহিদ ভাই তো চেষ্টা করছেন, ফল যাই হোক উনি কেন চাকরি ছাড়বেন? এর কিছুদিন পর থেকেই তার সঙ্গে নির্বাচক মনজুরুল ইসলামের আচরণ বদলে যায় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।


চিঠির দ্বিতীয় অংশে জাহানারা লেখেন, মঞ্জু ভাই মাঠে আমার সঙ্গে অকারণে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। চিৎকার করেন, রূঢ়ভাবে কথা বলেন। বুঝতে পারছিলাম না, আমার দোষটা কোথায়!


তিনি দাবি করেন, ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তৎকালীন ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।


বাংলাদেশ গেমসের সময় দল গঠনে পক্ষপাত ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের অবমূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করেন জাহানারা। 


তিনি লিখেছেন, রুমানা তখন অধিনায়ক থাকা সত্ত্বেও তাকে এক পাশে সরিয়ে তিনটি দলের তিনজন আলাদা অধিনায়ক করা হয়। এর ফলে রুমানা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তখন থেকেই আমাদের তিনজন আমি, সালমা আপু ও রুমানাকে আলাদা করে দেওয়া হয়, আর জ্যোতির প্রভাব বাড়তে থাকে।


চিঠির এক পর্যায়ে জাহানারা লিখেছেন, অনুশীলন ম্যাচে মঞ্জু ভাই ওয়াকিটকিতে বলেন, জাহানারাকে ইয়র্কার বল করতে বলো। আমি চেষ্টা করেও তা গুড লেন্থে পড়ায় তিনি রেগে গিয়ে চিৎকার করেন, ‘খবরদার! জাহানারাকে আর যেন বল না দেওয়া হয়! মাঠে সবাই হতবাক হয়ে যায়।


জাহানারার এই চিঠি সম্প্রতি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, ন্যায্য আচরণ ও পেশাদার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


বিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেই এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।