প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ
আইনি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান 'পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েলের' (পিসিএটিআই) আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আটক বন্দীদের মধ্যে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন—একজন পুরুষ নার্স এবং অন্যজন তরুণ খাবার বিক্রেতা। তাঁদের মাসের পর মাস কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল।
'রাকেফেত' কারাগারটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আটক রাখার জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এটিকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের উগ্রপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই কারাগারটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। ইসরায়েলি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেন, হামাসের বিশেষ বাহিনী 'নুখবা' এবং হিজবুল্লাহর বিশেষ যোদ্ধাদের বন্দী রাখার জন্য এটি আবার চালু করা হয়েছে।
কারাগারটির বৈশিষ্ট্য হলো—কারাকক্ষ, ব্যায়ামের মাঠ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কক্ষ—সবকিছুই মাটির নিচে অবস্থিত। ফলে এখানকার বন্দীদের প্রকৃতির আলো ছাড়াই বেঁচে থাকতে হয়।
ভূগর্ভস্থ রাকেফেত কারাগারে স্থানান্তরিত হওয়া ওই দুই বন্দী—নার্স ও খাবার বিক্রেতা—তাঁদের সঙ্গে সহিংস আচরণের এবং নিয়মিত মারধরের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। নার্সকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাসপাতালে কাজ করার সময় আটক করা হয়, আর তরুণ খাবার বিক্রেতাকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি ইসরায়েলি তল্লাশিচৌকি থেকে আটক করা হয়েছিল।
পিসিএটিআইয়ের আইনজীবী জেনান আবদু বলেন, তিনি যে মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তাঁরা ছিলেন সাধারণ নাগরিক। তিনি ১৮ বছর বয়সী খাবার বিক্রেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তাঁকে রাস্তা থেকে একটি তল্লাশিচৌকি থেকে তুলে আনা হয়েছিল।
পিসিএটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূলত কড়া নিরাপত্তাবলয়ে রাখার জন্য অল্প কিছু বন্দীর জন্য রাকেফেত তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৮৫ সালে বন্ধ হওয়ার সময় সেখানে ১৫ জন বন্দী ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখানে আনুমানিক ১০০ বন্দীকে রাখা হয়েছে।
গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল তাদের আদালতে দোষী সাব্যস্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়। এছাড়াও, কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই মাসের পর মাস আটক রাখা গাজা থেকে আটক ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদের সঙ্গেই মুক্তি পেয়েছেন রাকেফেত কারাগারে বন্দী থাকা তরুণ খাবার বিক্রেতাও।
তবে এখনো ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে কমপক্ষে এক হাজার ফিলিস্তিনি আটক আছেন। রাকেফেত কারাগারে বন্দী থাকা ওই নার্স তাঁদেরই একজন। ইসরায়েলের গোপন নথি অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে গাজা থেকে আটক হওয়াদের বেশির ভাগই সাধারণ নাগরিক।
পিসিএটিআই বলেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হলেও ফিলিস্তিনিদের এভাবে ইসরায়েলি কারাগারে আটকে রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন ও নির্যাতনের সমতুল্য।
পিসিএটিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক তাল স্টেইনার বলেছেন, রাকেফেত কারাগারে নির্যাতনের ধরন আলাদা। মাটির নিচে মাসের পর মাস বন্দী থাকা মানুষগুলো সূর্যের আলোর দেখা পান না, যা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। স্টেইনার এই পরিস্থিতিকে 'শোষণমূলক ও প্রতিকূল' এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে, ২০১৯ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যেমন ফিলিস্তিনিদের মরদেহ রেখে দেওয়া আইনসম্মত বলা হয়েছিল, একইভাবে ইসরায়েল জীবিত বন্দীদেরও ‘বিনিময়ের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।