প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০১:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ
সুদান আজ রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র। সেনাবাহিনী আর আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের লড়াই দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত, লক্ষ লক্ষ পরিবার গৃহহীন আর কোটি মানুষ ক্ষুধা ও রোগের সঙ্গে লড়ছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একসাথে নতুন এক শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এই পরিকল্পনায় তিন মাসের যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী অস্ত্রবিরতি এবং নয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে ক্ষমতা যাবে একটি নাগরিক-নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে।
জাতিসংঘের হিসাব বলছে, অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। শুধু খার্তুমেই ৬০ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, সরাসরি যুদ্ধ কিংবা ক্ষুধা ও রোগে। প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। ভেতরে যারা রয়ে গেছে তাদের অর্ধেকই ভয়াবহ খাদ্য সংকটে ভুগছে। অনেক জায়গায় মানুষ পশুখাদ্য খেয়ে বেঁচে আছে।
নতুন শান্তি প্রস্তাবে বলা হয়েছে—এই যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই, বর্তমান অবস্থা কেবল অমানবিক কষ্ট বাড়াচ্ছে। কিন্তু এখানে শুরু হয়েছে মতবিরোধ। র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও তাদের সমর্থিত এক সমান্তরাল সরকার প্রস্তাবের কিছু দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। অন্যদিকে খার্তুমের সেনা-নেতৃত্বাধীন সরকার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যে কোনো উদ্যোগ যদি সুদানের সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে, তবে তা তারা মেনে নেবে না।
এটা প্রথম প্রচেষ্টা নয়। ২০২৩ সাল থেকে একের পর এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই টেকেনি। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি পূর্ব আফ্রিকার আঞ্চলিক সংগঠনও চেষ্টা করেছে, কিন্তু অবিশ্বাস, পারস্পরিক অভিযোগ আর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সব ব্যর্থ হয়েছে।
আজ সুদান এক মানবিক বিপর্যয়ের নাম। প্রায় অর্ধেক জনগণ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, কয়েক লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় মৃত্যুর মুখে। কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে, আর গ্রাম-শহরে প্রতিদিনই ঘটছে হত্যা, ধর্ষণ আর নির্যাতনের মতো নৃশংসতা। জাতিসংঘের তদন্তে আধাসামরিক বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই নতুন শান্তি প্রস্তাব সত্যিই কার্যকর হবে কি না। যদি হয়, তাহলে হয়তো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি আবারো শান্তি আর স্বাভাবিক জীবনের পথে হাঁটতে পারবে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে সুদানের মানুষদের দুঃস্বপ্ন আরও দীর্ঘায়িত হবে।