প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ০১:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় যৌতুকের দাবিতে নববধূর উপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে অবরুদ্ধ নববধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের বড় আদ্রা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ নববধূ জনি আক্তারকে (২০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বড় আদ্রা গ্রামের মোফাজ্জল সরকারের ছেলে মোশারফ হোসেন অন্তরের (২৮) সঙ্গে একই গ্রামের জুবের আকন্দের মেয়ে জনি আক্তারের গত ৯ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মোশারফ হোসেন অন্তরকে তার বাবা-মা ঢাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর বিভিন্ন সময় শশুর মোফাজ্জল সরকার ও শাশুড়ি মরিয়ম বেগম ছেলের অগোচরে পুত্রবধূর উপর যৌতুক দাবি ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে।
নির্যাতিতা নববধূ জনি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী অন্তর তাকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় যাওয়ার পর থেকেই কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। এ সুযোগে শশুর মোফাজ্জল ও শাশুড়ি মরিয়ম তার কাছে ১০ লাখ টাকার যৌতুক দাবি করে। নির্যাতিতার বাবা জুবের আকন্দ জানান, তিনি গরীব কৃষক, এত টাকা যৌতুক দিতে না পারায় তার মেয়েকে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে। এমনকি শশুর-শাশুড়ি মিলে ইতোপূর্বে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে নির্যাতিতার শশুর মোফাজ্জল সরকারের মুঠোফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল হাসান বলেন, পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গিয়ে নববধূকে তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।