প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে শতবর্ষী আবু হাশেম ঢালী (১১০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ভাবি, ভাতিজা ও ভাতিজিদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসআই শাহ আলম তাঁর পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় মোল্লারহাট বাজারে দোকানপাট দখল করে তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের মোল্লারহাট এলাকার ঢালী বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তাঁর ছেলে সোহেল সামাদ রুবেল, শওকত আকবর, মেয়ে খোদেজা আক্তার, মেয়ে জামাই ফয়েজ আহমেদ, ননদ রাজিয়া বেগম ও পারভিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গত ১৬ জুন দায়ের করা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুরের হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহাম্মদ গত ৫ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, তদন্তকালে মামলায় অভিযুক্ত সোহেল সামাদ রুবেল, শওকত আকবর পারভেজ, খোদেজা আক্তার সুমি, সেলিনা আক্তার, ফয়েজ আহম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা আইনের অধীনে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় অপর আসামি রাকিবের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারের জন্য অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং অপর পাঁচ অভিযুক্তকে অব্যাহতির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফারুক আহাম্মদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিনা আক্তার বলেন, তাঁর শ্বশুর আবু হাশেম ঢালী গত ১০ জুন সকালে মোল্লারহাট বাজার থেকে বাড়িতে আসার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হন। পরে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ঢাকায় তাঁর চিকিৎসা করানো হয়। তিনি দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়েই মারা যান। কিন্তু তাঁর দেবর শাহ আলম সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেলিনা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী এ কে এম সামছুল আলম মারা যাওয়ার পর শাহ আলম তাঁদের জমি ও দোকানপাট দখল করে রেখেছেন এবং মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন।
সেলিনার ছেলে সোহেল সামাদ রুবেল বলেন, মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত এবং হয়রানি থেকে রেহাই পেতে তাঁরা পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় আদালতে লিখিতভাবে অব্যাহতির জন্য জানিয়েছেন। কিন্তু শাহ আলম তাঁদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে এবং পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই নোয়াখালীর তদন্তে রয়েছে।
মৃত আবু হাশেম ঢালীর মেয়ে রাজিয়া বেগম বলেন, তাঁর বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৬ দিন পর মারা যান। কিন্তু তাঁর ছোট ভাই (এসআই শাহ আলম) সম্পত্তির লোভে তাঁদের ভাবি-ভাতিজা ও ভাতিজিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কক্সবাজার জেলা পুলিশে কর্মরত এসআই মো. শাহ আলমের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।