প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০১:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দুর্বল হয়ে পড়া বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোকে আবারও সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষত, তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে (SAARC) পুনরুজ্জীবিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূস এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
নিরস্ত্রীকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার
ড. ইউনূস তার ভাষণে উল্লেখ করেন, "আমরা পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের যে অধিকার প্রতিটি দেশের রয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানাই।" তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারসহ ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমরা এ বছর সংঘাত দেখেছি। তাই নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের গুরুত্ব এখন আরও বেশি করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি নিশ্চিত করেন, একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার আগেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) অধীনে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা–সম্পর্কিত যৌথ কনভেনশনে যোগদান করেছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পারমাণবিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়।
সার্ক পুনরুজ্জীবনে জোর
প্রধান উপদেষ্টা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চার দশক আগে গঠিত এই সংস্থাটি প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। যদিও বর্তমানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা রয়েছে, তবুও এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কার্যকর এবং কোটি কোটি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাখে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা ও কল্যাণের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতায় গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য জোরদার করতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিমসটেক, বিবিআইএন, এশিয়ান হাইওয়ে এবং সার্কের মতো উদ্যোগে কাজ করছে। আসিয়ানের মতো কার্যকর আঞ্চলিক ফোরামে যুক্ত হওয়ার জন্যও বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, সম্মিলিত উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার ও সহমর্মিতার চর্চা অপরিহার্য। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে জাতিসংঘের পানিসংক্রান্ত কনভেনশনে যোগ দিয়েছে।