গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০২:৩৪ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

রোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা, দ্বিপাক্ষিক নয়: জাতিসংঘে ড. ইউনূস

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট কোনোভাবেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়। বরং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা শুধু একটি দায়িত্বশীল প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক সমাজের সদস্য হিসেবে আমাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছি।”

দীর্ঘায়িত সংকটের কারণ ও সমাধান
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি ও কর্মকাণ্ডই আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী এবং এই প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়া আর চলতে দেওয়া যায় না। তিনি মনে করেন, এই সমস্যার চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য। তবে রাখাইনের সমস্যাগুলোর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য অপেক্ষা না করেই এখনই নেওয়া সম্ভব।

তিনি জোর দেন যে, রাখাইন অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সকল জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেন রোহিঙ্গারা সমঅধিকার ও নাগরিকত্বসহ সমাজের অংশ হতে পারে। তাঁর মতে, মিয়ানমারের রাখাইনে রাজনৈতিক সমাধান না আসায় এবং বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ না হওয়ায় দীর্ঘ আট বছর ধরে এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক চাপ এবং কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

তহবিল ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক চাপ
ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সতর্কতা টেনে বলেন, নতুন তহবিল না এলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন অর্ধেকে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

তিনি দাতা দেশগুলোকে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন রাখাইন অঞ্চলে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, সেই আহ্বানও জানান ড. ইউনূস।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন বিশ্বব্যাপী দৃঢ় সংকল্প তৈরি করবে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি রোডম্যাপ গৃহীত হবে এবং সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।