প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৫ , ০৪:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হলে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দিকেও বিশ্বকে নজর দিতে হবে। এজন্য তিনি ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের ইনানীর ‘হোটেল বে ওয়াচে’ রোহিঙ্গা সংকট সমাধান নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের অংশীজন সংলাপের মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “২০১৭ সালে এবং তারও আগে থেকে আমাদের সম্পদ ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কেবল মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। সেই সময়ে রোহিঙ্গাদের বাঁচানোই ছিল প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু আজও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হয়নি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের ভয়াবহ পরিকল্পনা ঠেকানো আন্তর্জাতিক নৈতিক দায়িত্ব।”
ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেন, “সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই। মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মিকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, আর কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য না হয়। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন অপরিহার্য।”
এসময় তিনি ৭ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে জানান, এগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তৈরি, আন্তর্জাতিক ফান্ড গঠন, গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের মনোবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া।
অন্যদিকে নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশ এখন স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।”
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতরের যৌথ উদ্যোগে রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে শুরু হয় এই তিন দিনের সম্মেলন। ‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এ সংলাপে অংশ নিয়েছেন জাতিসংঘসহ রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা প্রায় সব আন্তর্জাতিক অংশীজন এবং ৪০টি দেশের প্রতিনিধি।
প্রথম দিন বিকেলে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিদেশি অতিথিরা সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সম্মেলনে প্রত্যাবাসনের রূপরেখা ছাড়াও আন্তর্জাতিক তহবিল, মানবিক সহায়তা, গণহত্যার বিচার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব ও বক্তব্যগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ সরকার।