প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দর বা নগদ মার্জিন আর থাকছে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় এটি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যেকোনো আমদানিকারক যেকোনো পরিমাণ পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবেন। নতুন করে তিন বছরের জন্য (২০২৫-২৮) তৈরি করা আমদানি নীতি আদেশে এই নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খসড়া নীতি আদেশ তৈরি করেছে এবং খসড়া তৈরির আগে বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের মতামতও নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, খসড়ার মূল বিষয়গুলো বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে তুলে ধরা হবে এবং এরপর উপদেষ্টা কোনো পর্যবেক্ষণ দিলে তা যুক্ত করে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। নতুন নীতি আদেশে এলসির পরিমাণ ও ন্যূনতম দর সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার মাত্র ১৪ মাস বাকি থাকায় নতুন নীতি তৈরিতে সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
নতুন খসড়ায় হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে এবং শব্দদূষণ কমানোর জন্য হর্নের মাত্রা ১০০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখার শর্ত রাখা হয়েছে। খাদ্যদ্রব্য আমদানিতে সরকার অনুমোদিত ল্যাবরেটরির তালিকা থাকবে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল ইথাইলিন ও প্রোপাইলিন প্রথমবারের মতো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। মিথাইল ব্রোমাইড, চিংড়ি, জীবিত শূকর ও শূকরজাত পণ্য, পপি বীজ, পোস্তদানা, ঘন চিনি, কৃত্রিম শর্ষের তেল, রিকন্ডিশন্ড অফিস ইকুইপমেন্ট, পুরোনো কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স, হাইড্রোলিক হর্নসহ ৭৫ ডেসিবেলের ঊর্ধ্বমাত্রার হর্ন, রাসায়নিক কীটনাশক ও শিল্পজাত দ্রব্য যেমন এলড্রিন, ডিডিটি, হেক্সক্লোরোবেনজিন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন ও থ্রি-হুইলার যানবাহন, চার্ট, মানচিত্র, হরর কমিকস, অশ্লীল ও নাশকতামূলক সাহিত্য, অডিও-ভিডিও টেপও আমদানি নিষিদ্ধ থাকবে।
শর্তসাপেক্ষে সাড়ে চার সেন্টিমিটারের কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের মাছ ধরার কারেন্ট জাল, পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি, তিন বছরের বেশি পুরোনো ও ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল, সব ধরনের খেলনা ও বিনোদনমূলক পণ্য, স্বাস্থ্য সনদ থাকা শর্তে বেসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার আমদানির সুযোগ থাকবে। পুরোনো জাহাজ আমদানিতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র থাকা আবশ্যক। যুদ্ধজাহাজ, তরবারি ও বেয়নেট শুধু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রে আমদানি করা যাবে।
চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা আমদানির অনুমতি থাকবে এবং বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র সাফটাভুক্ত দেশগুলোয় রপ্তানির বিপরীতে সমসংখ্যক চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে।