গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০২:৪২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়া সেরা ভারত

চ্যাম্পিয়নদের মতো দাপট! এশিয়া কাপে আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারত। এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ভারতের নামের পাশে যোগ হলো চ্যাম্পিয়ন তকমা। রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল সূর্যকুমার যাদবের দল। ৪১ বছরের এশিয়া কাপের ইতিহাসে এটাই ছিল ভারত-পাকিস্তান প্রথম ফাইনাল।

পাক ব্যাটিংয়ে হঠাৎ ধস

টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে পাক ওপেনাররা দেখালেন দুর্দান্ত ঝলক! শাহিবজাদা ফারহান আর ফখর জামান মিলে গড়েন ৮৪ রানের মজবুত জুটি। ফারহান তুলে নিলেন তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি।

কিন্তু, এরপরই যেন শুরু হয় নাটকের পালা। বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদবের স্পিন ঘূর্ণিতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাক ব্যাটিং লাইনআপ। ৫৭ রান করা ফারহানকে ফেরান বরুণ। মাত্র ১৪ রানে ফেরেন আইয়ুব। এরপর হারিস, সালমান আগা, শাহিন আফ্রিদি— কেউই লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। ৪৬ রানে ফখর জামানও আউট হলে কার্যত গুঁটিয়ে যায় পাকিস্তান। দারুণ শুরুর পরও শেষ দিকে ভারতীয় বোলারদের দুরন্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।

তিলক-দুবের দায়িত্বশীল ব্যাটিং

জয়ের জন্য ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় ভারত। ২০ রানের মধ্যেই অভিষেক শর্মা, সূর্যকুমার যাদব আর শুভমান গিল প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফাহিম আশরাফ ও শাহিন আফ্রিদির সাঁড়াশি আক্রমণে ভারত তখন ৩ উইকেটে ৩৬ রান তুলে কোনোমতে পাওয়ার-প্লে শেষ করে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে ত্রাণকর্তা হিসেবে আসেন দুই তরুণ তারকা সঞ্জু স্যামসন এবং তিলক বর্মা। তারা জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। তবে দলীয় ৭৭ রানের মাথায় স্যামসন আউট হলে আবারও চাপে পড়ে ভারত।

কিন্তু এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি তিলক বর্মা। তার সাথে যোগ দেন শিবম দুবে। এই দু'জনের ব্যাটে ভর করেই ভারত জয়ের পথে এগোয়। তীব্র চাপের মুখে টি-টোয়েন্টিতে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিলক। তিনি একাই অপরাজিত থাকেন ৬৯ রান নিয়ে। জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে ২২ বলে ৩৩ রান করে দুবে আউট হলেও, শেষ ব্যাটার রিংকু সিং বাউন্ডারি মেরে ভারতের বিজয় নিশ্চিত করেন।

২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারত এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখল।