গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

অসময়ের বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে আমন ধান তলিয়ে গেছে, হতাশায় শত শত কৃষক

অসময়ে মৌসুমী বৃষ্টির প্রভাবে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা অবিরাম বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ কৃষিজমি ডুবে যাওয়ায় জমিতে থাকা অর্ধপাকা ধান নষ্টের আশঙ্কায় ভুগছেন উপজেলার শত শত কৃষক।


রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বর্ষণের ফলে ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের কৃষিজমি ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকার ধানগাছ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে ধান গাছের গোড়ায় পচন শুরু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অর্ধপাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ এই বৃষ্টিতে সব মাঠ পানির নিচে চলে যাওয়ায় সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।


পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, "ধান পেকে গেছে, এখন কাটার সময়। কিন্তু মাঠে পানি জমে গেছে। ধান কাটা তো দূরের কথা, মাঠে ঢোকাই যাচ্ছে না।" একই এলাকার কৃষক মো. আবদুল করিম বলেন, "বৃষ্টি আর জোয়ারে ফসল ডুবে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানগাছ পচে যাবে, আমাদের পুরো বছরের পরিশ্রম শেষ।"


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমান মৌসুমী বৃষ্টিতে প্রতিটি ইউনিয়নে রোপা আমন ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ পানি নেমে গেলে বোঝা যাবে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পানির নিচে থাকা ধানগাছ বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, "এই সময়ে বৃষ্টি আমনের জন্য ক্ষতিকর। আমরা মাঠ পর্যায়ে নজর রাখছি। পানি দ্রুত সরে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।"


স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যেন মৌসুমী এই বৃষ্টিতে তাদের বছরের পরিশ্রম পুরোপুরি নষ্ট না হয়।