প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ , ১২:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঐক্য প্রতিষ্ঠার বদলে বরং ‘জাতীয় অনৈক্য’ প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
আলোচনা ছাড়াই সুপারিশ যুক্ত করার অভিযোগ: সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আজ সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ পেশ করেছে। কিন্তু সেই সুপারিশে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে নতুন একটি ধারণা বা আইডিয়া সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ঐকমত্য কমিশনের কোনো বৈঠকে আলোচনা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেটা নিয়ে আলোচনা হয়নি, সেটা তারা চাপিয়ে দিতে পারেন না।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি: তিনি আরও বলেন, সুপারিশে বলা হয়েছে যে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। অথচ ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, তারা নোট অব ডিসেন্ট বিষয়টি উল্লেখ ছাড়াই সরাসরি পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির প্রস্তাব সুপারিশ করে ফেললেন।
২৭০ দিনের সময়সীমা নিয়ে উপহাস: সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে ২৭০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, না হলে সংবিধানে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো) গৃহীত হবে—এটা হাস্যকর। তিনি উপহাস করে বলেন, পরীক্ষায় অটোপাশের মতো সংবিধানে কোনো কিছু সংযুক্ত হতে পারে না।
বিএনপির এই নেতা মন্তব্য করেন, ঐকমত্য কমিশন কিছু সুপারিশ দিয়ে শুধু নিষ্কৃতি পেতে চেয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আশা করি যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হবে এবং আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আগামী জাতীয় সংসদ পাবো।"
জুলাই সনদ ও গণভোট: সালাহউদ্দিন আহমদ পুনর্ব্যক্ত করেন, জুলাই মাসের জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি সম্মতি দেয়, তবে পরবর্তী সংসদ তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং যেভাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে, নোট অব ডিসেন্টসহ সেভাবেই বিষয়টি কার্যকর হওয়া উচিত।