নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে, ঝুঁকিতে আরও ১৩টি
দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি আসতে চলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI) বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠানও চরম ঝুঁকিতে আছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার মূল কারণ হলো, তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ আকাশচুম্বী। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না এবং নতুন ঋণ দেওয়াও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এক কথায়, তারা কার্যত দেউলিয়া হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ পাঠিয়েছিল, কেন তাদের বন্ধ করা হবে না। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। তাই সেগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১.এফএএস ফাইন্যান্স
২.বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
৩.পিপলস লিজিং
৪.ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
৫.আভিভা ফাইন্যান্স
৬.প্রিমিয়ার লিজিং
৭.ফারইস্ট ফাইন্যান্স
৮.জিএসপি ফাইন্যান্স
৯.প্রাইম ফাইন্যান্স
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু এই নয়টিই নয়, আরও ১৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণও ৫০ শতাংশের বেশি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সিভিসি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, আইআইডিএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও এফএএস ফাইন্যান্স।
বর্তমানে নন-ব্যাংক আর্থিক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চিন্তার কারণ।