গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:৩৬ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

নিউইয়র্কে আখতারকে ডিম নিক্ষেপ: এনসিপির তীব্র নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার ওপর ডিম হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়েছে। একইসাথে সরকারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিও জানিয়েছে এনসিপি।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি আমন্ত্রণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফর কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হন আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার উদাহরণ। আমরা প্রশ্ন করছি—যদি সরকারি সফরে অংশগ্রহণকারীরাই ন্যূনতম নিরাপত্তা না পান, তবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি কনস্যুলেট ও দূতাবাসগুলোর প্রয়োজন কী? তারা কাদের স্বার্থে কাজ করছে, আর কেন এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?"

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, "বাংলাদেশ সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সফররত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাই।"

এনসিপির তিনটি মূল দাবি হলো:
১. বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনের কাছে সরাসরি অভিযোগ করতে হবে।
২. নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলসহ পুরো ফরেন সার্ভিস টিমকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
৩. সফরের বাকি অংশে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও উল্লেখ করে, "এই হামলার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য সফরসঙ্গীরাও ছিলেন এবং তারাও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন। তবে এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল এনসিপি নেতারা।" তারা আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের বিপ্লবে জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, তাদের ওপর হামলাকারীদের ক্ষোভ আজও কমেনি। আখতার হোসেনকে জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, আর আজও তাকে সেই সংগ্রামের মূল্য দিতে হচ্ছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা।

সবশেষে দলটি স্পষ্ট করে জানায়, "বিদেশি মাটিতে আওয়ামী লীগের এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করছি।"

ঘটনার পর আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা সেই প্রজন্ম যারা শেখ হাসিনার গুলির সামনে মাথা নত করিনি, তাই ভাঙা ডিমে আমাদের কিছু যায় আসে না। আওয়ামী লীগ আবারও প্রমাণ করল যে তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।"

অন্যদিকে, তাসনিম জারা তার ফেসবুকে লিখেছেন, "এটি আখতার হোসেনের ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে করা হয়েছে। এই হামলা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে পরাজিত শক্তির ভয় ও হতাশা কতটা গভীর।"