প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৮:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। ধানের শীষ প্রতীককে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা উঁচিয়ে ধরব। এজন্য প্রতিটি ঘরে যেতে হবে, সব প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হবে—বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে, যারা অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এটি তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত।” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ্যানি বলেন, “আজ আমরা সবাই এক মঞ্চে মিলিত হয়েছি। রামগঞ্জে ঐক্যের বন্ধন তৈরি হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষ-বিপক্ষ বা মতভেদ নেই।”
সম্মেলনের পরিবেশ
রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শেখ কামরুল হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১২–দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিনসহ অনেকে। প্রায় ৩৭ বছর পর রামগঞ্জে বিএনপির এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরের সড়ক ও সম্মেলনস্থল তোরণ, ফেস্টুন ও ব্যানারে সেজে ওঠে।
সম্মেলনের তাৎপর্য
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালের পর রামগঞ্জে বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন হয়নি। এরপর সব কমিটি সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালিত হচ্ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নেতা-কর্মীরা নতুনভাবে সক্রিয় হন। আত্মগোপনে থাকা নেতারা ফিরতে শুরু করেন এবং কারামুক্তরা রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এবার রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোট ১৯ জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলা বিএনপির ৭১০ জন এবং পৌর বিএনপির আরও ৭১০ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।