প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী শুধু একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নয়, বরং এটি একটি নতুন শহরের জন্ম দেবে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবগঠিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক ও মো. সারোয়ার আলম, এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ ও তার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মিডার চেয়ারম্যান মহেশখালী-মাতারবাড়ী প্রকল্পের একটি প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে— প্রথম ধাপ ২০২৫ থেকে ২০৩০, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০ থেকে ২০৪৫ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪৫ থেকে ২০৫৫ পর্যন্ত। আশিক চৌধুরী জানান, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের জিডিপিতে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হবে।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের শুধু গভীর সমুদ্রবন্দর নয়, বরং ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার ভিশন নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই এলাকা শুধু একটি ফ্যাসিলিটেটিং জোন হিসেবে কাজ করবে না, বরং সেখানে একটি নতুন শহর গড়ে উঠবে, যা আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি তৈরি করবে। তার মতে, "সমুদ্রই হবে বিশ্বের পথে আমাদের মহাসড়ক।"
প্রধান উপদেষ্টা গভীর সমুদ্র নিয়ে গবেষণার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা সমুদ্র নিয়ে খুব বেশি কাজ করিনি, তাই এ বিষয়ে গবেষণা ও তথ্য খুবই সীমিত। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নেওয়ার এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। ড. ইউনূস বলেন, নিজস্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ওশান ইকোনমি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা উচিত।
পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টা এই প্রকল্পের পরিবেশ সংরক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন। বৈঠকে একটি ইকো-ট্যুরিজম পার্ক তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, সেখানকার বর্তমান বনভূমির অবস্থা এবং ভবিষ্যতে বনভূমিগুলোকে কেমন দেখতে চাই, সে ব্যাপারেও একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার।