প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই বাজারে মধ্যবিত্তের জন্য নিরাপদ আশ্রয় বা ভরসার নাম হলো সঞ্চয়পত্র। ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে যে মুনাফা মেলে, তার চেয়ে বেশি লাভ ও নিশ্চিন্ত বিনিয়োগের চিন্তা থেকেই অনেকে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝোঁকেন। অনেকের কাছে সঞ্চয়পত্র যেন সংসারের চাকা ঘোরানোর জ্বালানি, কারণ এর মুনাফা দিয়ে তাঁরা দৈনন্দিন খরচ সামলান। এক অর্থে সঞ্চয়পত্র এখন সামাজিক সুরক্ষার এক শক্তিশালী অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে: পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। যদিও এদের মুনাফার হার কাছাকাছি, তবে প্রতিটি সঞ্চয়পত্রের বৈশিষ্ট্য ও শর্তে ভিন্নতা আছে। তাই শুধু লাভের হার নয়, অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মুনাফার হার: কোথায় কত লাভ?মনে রাখা দরকার, গত জুলাই মাস থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমিয়েছে।
পরিবার সঞ্চয়পত্র: দেশে যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এখানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে ১১.৯৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এই হার দাঁড়ায় ১১.৮০ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র: এই সঞ্চয়পত্র যেন সবচেয়ে বেশি মুনাফার ডালি নিয়ে আসে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা পাওয়া যায় ১১.৯৮ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার হয় ১১.৮০ শতাংশ।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: এখানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তিতে মুনাফার হার ১১.৮২ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুনাফার হার হয় ১১.৭৭ শতাংশ।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: মনে রাখবেন, যদি মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলেন, তবে মুনাফার পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। তাই জরুরি প্রয়োজন না হলে মেয়াদপূর্তির আলো পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকার একটি দেয়াল টেনে দিয়েছে অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায় ।
পরিবার সঞ্চয়পত্র: এই সঞ্চয়পত্র মূলত প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যদিও প্রতিবন্ধী বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের নাগরিকরাও কিনতে পারেন। সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র: এটি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়।
অন্যান্য সঞ্চয়পত্র (৩ মাস অন্তর ও ৫ বছর মেয়াদি): ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৩০ লাখ টাকা অথবা যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অনাথ বা প্রবীণদের আশ্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই সীমা ভিন্ন হতে পারে।
এই নিরাপদ বিনিয়োগের চাবিকাঠি আপনি খুঁজে নিতে পারেন জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা এবং ডাকঘর থেকে। এই সব স্থান থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।