কূটনীতির মাঠ থেকে সরে আসছেন ট্রাম্প: ইউক্রেন ও গাজায় নীরব ভূমিকায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন ও গাজায় সংঘাত সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পর এখন অনেকটা নীরব হয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে সরে এসেছেন এবং মিত্র দেশগুলোকে এসব সংঘাতের নেতৃত্ব দিতে বলছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কেবল দূর থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
এই নীরবতা বিশ্বজুড়ে কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় মিত্ররা শঙ্কিত। সম্প্রতি রাশিয়া ন্যাটো সদস্য দেশ এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই দেশগুলোতে কিছু সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেবে, কারণ এখন তাদের মনোযোগ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিকে।
ট্রাম্পের এমন আচরণের পর শুক্রবার এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় রুশ মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান প্রবেশ করে, যা প্রায় ১০ মিনিট ধরে ছিল। একই দিনে পোল্যান্ডের তেল প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়েও রুশ যুদ্ধবিমান উড়ে যায়। এসব ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সীমিত। তিনি শুধু বলেছেন, এটি ‘বড় ধরনের ঝামেলা’ হতে পারে। এই ঘটনাগুলো ট্রাম্পের নতুন ধরনের আচরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে তিনি অভ্যন্তরীণ বিষয়, যেমন অপরাধ দমন ও ভিসা নীতি সংস্কারের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন যে এই সংঘাতগুলো সমাধান করা তার ভাবনার চেয়েও অনেক জটিল। তবে তার এই বিচ্ছিন্নতা নীতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও আগ্রাসী হতে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, তিনি শুধু ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করছেন। কিন্তু অনেক কূটনীতিক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নীতিতে একটি ফাঁদ রয়েছে, যা ইউরোপের জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।