জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণ, এবার হাসির বদলে নীরবতা
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জাতিসংঘে এসে ভাষণ দিলেন। আর তার এই বক্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে আছে, ছয় বছর আগে যখন তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘে বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন, তখন তার কিছু অদ্ভুত কথা শুনে সবাই হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিলেন? কিন্তু এবার দৃশ্যটা ছিল একদম ভিন্ন। এবার আর কেউ হাসেননি, বরং দর্শকরা চুপচাপ তার পুরো কথা শুনেছেন।
এক ঘণ্টার বেশি সময়ের এই লম্বা বক্তব্যে ট্রাম্প বরাবরের মতোই নিজের দেশ এবং নিজের প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার সময়ে নাকি আমেরিকা ‘সোনালি দিন’ পার করছিল এবং তিনিই নাকি সাতটা যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন ‘কৃতিত্বের’ জন্য তিনি নিজেকে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য বলেও বারবার দাবি করেন।
ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প জাতিসংঘের ওপর বেশ ক্ষিপ্ত হন। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে জাতিসংঘ তাকে কোনো সহযোগিতা করেনি। তার মতে, সংস্থাটির অনেক সম্ভাবনা থাকলেও তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি, কারণ শুধু ‘ফাঁকা বুলি’ দিয়ে যুদ্ধ থামানো যায় না।
তবে ট্রাম্পের সবচেয়ে কড়া সমালোচনা ছিল তার ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে “সবচেয়ে বড় ধোঁকা” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, জ্বালানি ও অভিবাসন ইস্যুতে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইউরোপের দেশগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
ভাষণের শেষে ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি প্রথমবারের মতো বলেন যে ইউক্রেন হয়তো তাদের হারানো সব এলাকা আবার ফিরে পাবে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে এতে আমেরিকার কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ভাষণটি ছিল তার পুরনো ঢঙেই: আমেরিকার জয়গান গাওয়া, বিশ্বায়নের বিরোধিতা করা এবং কিছু বিতর্কিত যুক্তি তুলে ধরা। তবে এবার তার কথায় হাসির বদলে সবাই ছিলেন নীরব।