গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো ঝুঁকির মুখে
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'আর্টিকেল নাইনটিন'-এর এক প্রতিবেদনে এমনই alarming তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও সংকটে রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় red flag। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬০তম অধিবেশনে 'গ্লোবাল এক্সপ্রেশন রিপোর্ট' নামের একটি প্রতিবেদনে আর্টিকেল নাইনটিন এই গুরুতর বিষয়টি তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল আইন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আসার পথও খুলেছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এলেও কিছু নতুন খসড়া আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই খসড়া আইনগুলোতে এমন কিছু ধারা আছে, যা মানুষের কথা বলার অধিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারে। এর ফলে অযাচিতভাবে কনটেন্ট মুছে ফেলা, বেআইনি নজরদারি এবং স্বচ্ছতার অভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আর্টিকেল নাইনটিন। ১৩ বছর আগে খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই ঘটনা বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়ার এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরে। শুধু হত্যা নয়, সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা ও হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন এবং খন্দকার শাহ আলমও খুন হন। আর্টিকেল নাইনটিন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সব ধরনের হামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। এতে করে সমাজে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে এবং অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা খুবই alarming। বিশেষ করে যারা সমাজের বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি করেছে, নতুন আইনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হোক। সাংবাদিকদের ওপর সব হামলার জন্য দ্রুত এবং কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক।