গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ০৪:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

গাজার অবরোধ ভাঙার হুঁশিয়ারি সৌদির

আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সৌদি আরব। উল্টো নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল দেশটি। তবে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের জন্য এবার বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলল রিয়াদ। হামাসকে অজুহাত বানিয়ে গাজা দখলের যে নির্লজ্জ প্রচেষ্টা শুরু করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি রাজতন্ত্র। এমনকি ফিলিস্তিন ও আশপাশের অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে দখলদাররা যে “গ্রেটার ইসরাইল” গঠনের পরিকল্পনা করছে, তারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি সরকার। পাশাপাশি গাজায় অবরোধ ভাঙারও হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


সোমবার ওআইসি-র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিশ্বকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। আল মায়াদিীনের বরাতে জানা যায়, তিনি বলেন—গাজা উপত্যকায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরাইলি বাহিনী যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা বিশ্বকে অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে। পশ্চিম তীরে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনে অবরোধ ভাঙতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারিও দেন তিনি। সেইসাথে নেতানিয়াহুর তথাকথিত “গ্রেটার ইসরাইল” পরিকল্পনারও নিন্দা জানান সৌদির প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।


এর আগে গত বুধবার গাজা উপত্যকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনা অভিযানের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন দখলদারদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাজ। এই সামরিক অভিযানটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। কাজের এমন সিদ্ধান্তের একদিন পরেই গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনাবাহিনীকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।


তবে এর আগেই, গত জুলাইয়ে আল আকসা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের দাবি তুলে ফ্রান্সের সাথে যৌথ বিবৃতি দেয় সৌদি আরব। সেই বিবৃতিতে সম্মতি জানায় বিশ্বের ১৯টি দেশ। আরব লীগ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু মাস না যেতেই পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্লুপ্রিন্ট প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ইসরাইল সরকারের এমন পদক্ষেপের পর থেকেই প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যদিও সেসব তোয়াক্কা না করেই সেনাবাহিনীকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে নির্দেশ দেন তিনি।


ফিলিস্তিনিদের জন্য সৌদি আরব প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেও গোপনে ইসরাইলকে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গত জুলাইয়ে গণহত্যাকারী ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাহাজভর্তি অস্ত্র আনার চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। তবে ইতালির সাহসী বন্দরকর্মীদের কারণে সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।