প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ০৩:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আজ ৩০ অক্টোবর, বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত, সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং প্রায়শই সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষটির জন্মদিন—ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৬০ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসের দরিদ্র এলাকা ভিয়া ফায়োরিতায় তাঁর জন্ম। তাঁর ৬৫তম জন্মদিনে, ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করছে সেই মহাতারকাকে, যিনি মাঠের সবুজ ঘাসকে তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে পরিণত করেছিলেন।
ম্যারাডোনা ছিলেন একাধারে শিল্পী এবং যোদ্ধা। তাঁর বাম পায়ে ছিল কবিতার ছন্দ, আর হৃদয়ে ছিল আর্জেন্টিনার বঞ্চিত জনগণের ক্ষোভ ও স্বপ্ন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯৭৯ সালে যুব বিশ্বকাপ জয় করে তিনি জানান দেন, ফুটবলের সিংহাসন দখলের জন্য এক নতুন রাজা এসেছেন।
হ্যান্ড অফ গড ও শতাব্দীর সেরা গোল: তাঁর ক্যারিয়ারের চূড়া ছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন, যা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। প্রথমটি ছিল বিখ্যাত 'হ্যান্ড অফ গড', যা ছিল তাঁর ধূর্ততা ও ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। আর দ্বিতীয়টি ছিল ৬০ মিটার একক দৌড়ে প্রায় ছয়জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি'—যা নিছক গোল নয়, যেন ঘাসের ওপর আঁকা এক কাব্য। তাঁর নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
নাপোলির ত্রাণকর্তা: আন্তর্জাতিক গণ্ডি পেরিয়ে ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন এক ত্রাণকর্তা। ইতালির ক্লাব নাপোলিকে তিনি জুভেন্টাস এবং এসি মিলানের মতো পরাশক্তির ভিড়ে ইতালীয় ফুটবলের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। নাপোলির জন্য সিরি আ শিরোপা জয় করে তিনি শহরটির মানুষের কাছে একজন 'ঈশ্বর'-এর মর্যাদা পান। এটি কেবল খেলার জয় ছিল না, উত্তর ইতালির ধনী ক্লাবগুলোর কাছে দক্ষিণ ইতালির শ্রমজীবী মানুষের আত্মমর্যাদার জয় ছিল।
বিতর্ক ও বিদায়: তাঁর ফুটবল জীবন যেমন উজ্জ্বল ছিল, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল বিতর্কিত ও নাটকীয়। মাঠের বাইরে মাদকাসক্তি, ডোপিং-এর কারণে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার এবং বিভিন্ন আইনি ঝামেলা তাঁর ক্যারিয়ারে অন্ধকার দিক এনেছিল। তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তাঁর জীবনের এই ভুলগুলো তাঁর ফুটবল প্রতিভাকে ম্লান করে দিয়েছিল।
২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি ৬০তম জন্মদিন পালন করেন এবং সেই বছরের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ, ম্যারাডোনার ৬৫তম জন্মদিনে ফুটবল বিশ্ব তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে—শুধু একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন জটিল, মানবীয় এবং জাদুকরি প্রতিভা হিসেবে, যিনি ফুটবলকে চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন।