একই কর্মস্থলে ৯ বছর পিআইও এনামুল
ঘাটাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক টানা ৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে আছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তাকে এক জায়গায় সর্বোচ্চ তিন বছর থাকতে পারার কথা থাকলেও, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বারবার বদলি ঠেকিয়ে তিনি ঘাটাইলেই বহাল আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘাটাইল উপজেলায় এনামুল হকের যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভুয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুর্নীতি নিয়ে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এমনকি বিচার বিভাগীয় তদন্তেও ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। তখন পিআইও এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্টদের সরকারি কোষাগারে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছিল। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে এনামুল হককে গোপালপুরে বদলি করা হয়। পরে ২০১৬ সালে বগুড়ায় বদলির নির্দেশ এলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর একই বছরের নভেম্বরে তিনি আবারও ঘাটাইলে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকে সেখানেই আছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্নীতির টাকায় এনামুল হক ঘাটাইলে কোটি টাকার জমি ও দোকান কিনেছেন। এ ছাড়া বিলাসবহুল গাড়িসহ আরও অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে জমি বিক্রেতা জানান, এনামুল হকই তার কাছ থেকে জমি কিনেছেন।
এই দীর্ঘ সময় ধরে একজন কর্মকর্তা একই পদে কীভাবে থাকলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও প্রশাসন যেন নীরব। এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, এটি তাঁর আওতার বাইরের বিষয়। তবে অনেকেই মনে করেন, কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে প্রশাসনও এ বিষয়ে অসহায়।