এক শতাব্দীর পর ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ঘোষণা: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য
অবশেষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য। প্রায় ১০৮ বছর আগে ১৯১৭ সালের ব্যালফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূমিতে ইসরায়েলের জাতীয় আবাসভূমি গঠনের সমর্থন দিয়েছিল ব্রিটেন। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর, এবার সেই একই ব্রিটিশ ভূমি থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানানো হলো। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা শান্তির সম্ভাবনা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে টিকিয়ে রাখতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছি।” যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগালও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন শুরুর মাত্র দুদিন আগে এই পদক্ষেপকে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ব্রিটিশ সরকারের এই ঘোষণার পর ইসরায়েল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে “হামাসকে পুরস্কৃত করা” বলে আখ্যা দেন। চরমপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীরা দ্রুত পশ্চিম তীর দখলের দাবি তুলেছেন।অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একে “ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আশার বার্তা” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। রামাল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন শাহিন বলেন, “এটি আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকারের স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রত্যাখ্যান।”
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, “আজকের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আমাদের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। দুই-রাষ্ট্র সমাধানই টেকসই শান্তির একমাত্র পথ।” তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, স্বীকৃতি মানেই রাতারাতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নয়; বরং শান্তি প্রক্রিয়াকে সচল রাখার একটি কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তবে ফ্রান্স ও সৌদি আরব সোমবার জাতিসংঘে যৌথ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই-রাষ্ট্র সমাধান এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করবে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা