গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৫:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

এক সময়ে বিদেশে রপ্তানি হওয়া ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প বিলুপ্তির পথে

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কাঁসারীপাড়া। একসময় ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্পের জন্য খ্যাত ছিল এ এলাকা। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো এই শিল্পের পণ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সমৃদ্ধ কাঁসা শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা।


বিংশ শতাব্দীতে বিয়ে-সাদি, আকিকা ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে কাঁসার সামগ্রী ছিল অপরিহার্য। হিন্দু পরিবারের কাছেও এ শিল্পের জিনিসপত্র ছিল বিশেষ প্রিয়। সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁসা কিনতে ইসলামপুরে ভিড় জমাতেন। কারখানাগুলোতে কারিগররা দিন-রাত ব্যস্ত থেকেও চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতেন।


তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯৪২ সালে লন্ডনের বার্মিংহামে বিশ্ব হস্তশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করলে ইসলামপুরের প্রয়াত কাঁসাশিল্পী জগৎচন্দ্র কর্মকার সেখানে কাঁসার তৈরি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেন। ওই প্রদর্শনীতে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প স্বর্ণপদক অর্জন করে। এরপর থেকেই এ শিল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।


ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতবর্ষে প্রথমে ঢাকার ধামরাই এলাকায় কাঁসাশিল্পীরা বসতি গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। ইসলামপুরে গড়ে ওঠা কাঁসারীপাড়ায় পরিবারভিত্তিকভাবে এ শিল্প টিকে থাকলেও আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আজ তা টিকে থাকার লড়াই করছে।


বর্তমানে টিন, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের ব্যবহারে কাঁসার চাহিদা কমে গেছে। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে না পারায় কারিগররা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


তবুও নানা সংকটের মধ্যেও ইসলামপুরে এখনো ৮টি প্রতিষ্ঠান কাঁসা শিল্পকে ধরে রেখেছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান ও শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


ইসলামপুর বাজারের দূর্গা বাসনালয়ের মালিক নারায়ণ কর্মকার জানান, “পারিবারিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছি। সময়ের পরিবর্তনে অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখনও টিকে আছি। সরকার সহযোগিতা করলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।”