গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ১০:০৬ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

এবার তরতর করে বাড়ছে মুদ্রার দাম, কোন জাদুর কাঠি পেলো আফগানরা

আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন এক চমকের ইঙ্গিত মিলেছে। গত মাসেই নুরিস্তান প্রদেশের কামবিদিশ ও বারগামতাল জেলায় ৮.৯ কোটি আফগানিতে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে তালেবান সরকার। নুরস্থান গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিভাগের বরাদ্দে শুরু হওয়া এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সেচব্যবস্থা, রাস্তা ও সেতু নির্মাণ। তখনই বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, বিশ্ববাসীকে চমক দেখাতে উঠে পড়ে লেগেছে তালেবান সরকার। এবার আরও বড় চমক দিল তারা। আফগান মুদ্রা ‘আফগানি’র মান বেড়েছে ২১ শতাংশ—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আফগান মুদ্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।


আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নূরী জানান, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে তারা একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুদ্রার মান ধরে রাখা, ব্যাংকিং খাতকে সম্প্রসারিত করা এবং অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়ানো। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক খাতের অর্থায়ন বেড়েছে ৭১ শতাংশ। গত বছর বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে আফগানি ৭৯ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে। তার মতে, এটি প্রমাণ করে আফগানিস্তানের মুদ্রা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।


হাসিবুল্লাহ আরও জানান, বিশ্বের প্রায় ২০০টি ব্যাংকের সঙ্গে বর্তমানে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লেনদেন করছে। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে তারা সচেষ্ট, যাতে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের কার্যক্রমের বিস্তার ঘটাতে পারেন।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার বছর ধরে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। যদি আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়ানো যায় তবে এসব সমস্যা দূর হবে। পাশাপাশি আফগান মুদ্রার মান সুরক্ষায় বিকল্প আর্থিক রিজার্ভ বা সহায়তার পথ খুঁজে বের করাও জরুরি। তবে এখনো অভিযোগ রয়েছে যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা সবসময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংযোগ আরও জোরদার হয় তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে।


উল্লেখ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের কাছ থেকে তালেবান যখন ক্ষমতা দখল করে তখন বিপুল পরিমাণ ডলার নিয়ে দেশ ছাড়েন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে দারিদ্র্যপীড়িত দেশটি আরও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষে অনেক পরিবার সন্তান বিক্রির মতো অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও পড়ে। তবে তালেবান সরকারের চার বছরের শাসনে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশটির অর্থনীতি, এবং এখন আবারও সুদিন ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।