প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ১১:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
যার নাক উঁচু ও লম্বা, সে চাইবেই সেটির আকার-আকৃতি গঠন ঠিক রাখতে। ঠিক সেভাবেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে আবারো সক্রিয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদকচক্র দমনের অজুহাতে এবার দক্ষিণ ক্যারিবি অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন করছে কয়েকটি সামরিক জান।
মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি এজিস গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস গ্রেভলি, ইউএসএস জেসন ডানহাম ও ইউএসএস স্যামসন সেখানে পাঠানো হচ্ছে। সঙ্গে থাকবে পি-৮ গোয়েন্দা বিমান, একটি অ্যাটাক সাবমেরিন এবং কয়েকটি সাধারণ যুদ্ধজাহাজ। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার নৌ সদস্য অংশ নেবেন এই অভিযানে। এ বাহিনী শুধু নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই করবে না, বরং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে হামলার জন্যও প্রস্তুত থাকবে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলার মাদকচক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তার সরকারের ধারাবাহিক নীতির অংশ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ অভিযান কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তার সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শাসন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন,
“শাসন পরিবর্তনের নামে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে সামরিক সন্ত্রাসী, অনৈতিক ও অবৈধভাবে আক্রমণ করছে। এটি শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, সমগ্র লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবি অঞ্চলের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সি চলাকালেই মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন ফেডারেল আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে।
এর জবাবে মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন হুমকির মোকাবিলায় তিনি পুরো ভেনেজুয়েলার সাড়ে চার লাখ মিলিশিয়া সদস্য মোতায়েন করবেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মোতায়েনকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবি অঞ্চলে।