প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৫ , ০৩:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পর আসামি হাসানুল হক ইনু যে বক্তব্য দিয়েছেন, আদালতের তা আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ গঠনের পর দোষী এবং নির্দোষ—এর বাইরে আসামির কোনো বক্তব্য দেয়ার আইনি সুযোগ নেই। রোববার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে তিনি এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।
তাজুল ইসলাম জানান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং ১৪ দলীয় জোটের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে হাসানুল হক ইনুর কমান্ড ও নেতৃত্বের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিভিন্ন সময়ে মিটিংয়ে আন্দোলন দমনে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং দেখামাত্র গুলির মতো নির্দেশনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ইনু তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্যে ছাত্রদেরকে সহিংস, সন্ত্রাসী বা জামায়াত-শিবির বলে তাঁদের হত্যা করা যে বৈধ, এই ধরনের একটি ধারণা তৈরি করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ইনু বিগত সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে, ড্রোন, হেলিকপ্টার, বম্বিং করার মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার যে পরিকল্পনা, সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং সম্মতি জানিয়েছেন। এছাড়া কীভাবে আটক করা উচিত, আটক করে কোর্টে বা জেলে না পাঠিয়ে কী করা উচিত—এসব বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশে সংগঠিত পুরো মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর যে অবস্থান, সেগুলোকে অভিযোগ আকারে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৮টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। একই রকম অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফসহ কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
ইনুর দোষ স্বীকারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা করে বলেন, আইনের বিধান হলো, অভিযোগ গঠনের পর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয় যে তিনি নিজেকে নির্দোষ মনে করেন নাকি দোষী। যদি তিনি নিজেকে দোষী বলেন, তাহলে আদালত এর ভিত্তিতে রায় দিয়ে ফেলতে পারেন। আর যদি তিনি নির্দোষ মনে করেন, তবে মামলাটি বিচারে যাবে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। এই সময়ে আসামির একমাত্র বক্তব্য হতে পারে তিনি দোষী নাকি নির্দোষ—এর বাইরে কোনো বক্তব্য আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।