গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৯:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

দেশের ডলার রিজার্ভ আপৎকালীন সময়ের জন্য যথেষ্ট নয়: অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ ডলার মজুত আছে, তা দেশের আপৎকালীন সময়ের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডলারের চাহিদা কমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে দুই মিলিয়ন ডলার কিনে নিয়েছে, যার ফলে ডলারের দাম একই পর্যায়ে রয়েছে। এতে আমদানিকারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ডলারের দাম কিছুটা স্থিতিশীল না রাখলে খারাপ প্রভাব পড়বে। যারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে, কারণ তারাই আমাদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমরা ডলার কিনছি, এটা ঠিক। কিন্তু এখন আমাদের কাছে যে ডলার আছে, তা বাংলাদেশের আপৎকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ধরুন, দেশে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো। তখন দ্রুত কিছু আমদানি করতে হলে কী হবে? ফরেন এক্সচেঞ্জ শুধু আমদানির জন্য ব্যবহার করা হয়, এটা ভুল ধারণা। যদি কোনো সঞ্চয় না থাকে, তাহলে বিপদ হবে।"

তিনি ২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "তখন সিডর ও আইলা আঘাত হেনেছিল, অনেক ঝামেলা হয়েছিল। সে সময় আমরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলাম। তাই এসব ঝুঁকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে রিজার্ভ বাড়ানো দরকার।"

সম্প্রতি পিপিআরসি'র (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন কমিটি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে ৭০ শতাংশ মানুষ অস্বস্তিতে আছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা কেবল বলেন, "আমি পিপিআরসি'র প্রতিবেদন দেখেছি।" তিনি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বৈঠক প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আজকের বৈঠকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সার ও কিছু খাদ্যপণ্য আমদানি করি। তবে এবার চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করার জন্য এর রানওয়ে উন্নত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমকে আরও আধুনিক করার একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অকটেন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অকটেনের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে এর চাহিদা আছে। তাই আমরা চাই না যে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট দেখা দিক।"

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের মান উন্নয়নে কী করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়েটি গ্রেড-১ এর। এর সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে বড় বিমান ওঠানামা করতে হলে রানওয়েকে গ্রেড-২ তে উন্নীত করতে হবে। একইসাথে ঢাকার কন্ট্রোল রুমকে আরও আধুনিক করা হবে।"