গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:৩৭ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

দেনার পাহাড়ে পিষ্ট হয়ে সন্তান বেচলেন মা: ক্লিনিক মালিকের ৬ মাসের জেল

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যেন এক কঠিন বাস্তবতার চিত্র সামনে এল। দেনার ভারে পিষ্ট হয়ে সদ্য প্রসূত ছেলে সন্তানকে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন মা সুমাইয়া খাতুন। বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন হাসপাতালের বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং নগদ ৬৫ হাজার টাকা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটিতে সহযোগিতা করেন ক্লিনিকের নার্স ইসমোতারা।


মঙ্গলবার দুপুরে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপার মোড়ের পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। মা সুমাইয়া খাতুন, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পর চরম সংকটে পড়েছিলেন, তিনিই আজ অভাবের কাছে পরাজিত হয়ে নিজের সন্তানকে বিক্রি করলেন।
স্বামীর মৃত্যু, একলা মায়ের লড়াই

সুমাইয়া খাতুন মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা, যিনি চার মাসের গর্ভবতী থাকা অবস্থায় হৃদ্‌রোগে স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর সংকট যেন তাঁর জীবনকে গিলে ফেলে। স্বামী বা বাবা কোথাও ঠাঁই না পেয়ে অবশেষে তিনি বৃদ্ধা নানির বাড়িতে আশ্রয় নেন।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে এক প্রতিবেশীর সাহায্যে স্থানীয় ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপরই অভাবের নির্মম তাড়নায় তিনি নবজাতককে দত্তক দিতে বাধ্য হন। নবজাতকের মা সুমাইয়া খাতুন জানান, "স্বামীর মৃত্যুর পর গর্ভাবস্থায় কোথাও ঠাঁই পাইনি। লোকের কাছে ধারদেনা করে চলেছি। ক্লিনিকের খরচ, সন্তান মানুষ করা আমার পক্ষে সম্ভব না।" এই কারণেই তিনি কলিজার টুকরাকে দত্তক দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, "যারা দত্তক নিয়েছে তাদেরকে আমি চিনি না, শুধু শুনেছি তাদের বাড়ি কুমিল্লায়।"

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও শাস্তি

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার (১ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের নেতৃত্বে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ইউএনও খাদিজা আক্তার জানান, ক্লিনিকের কাগজপত্রে ত্রুটি ও পরিবেশ খারাপ থাকার কারণে হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্স ইসমোতারাকে আটক করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

যদিও ক্লিনিক মালিক সেলিম রেজা বাবু দাবি করেন, সিজারের পর রোগীর দেখাশোনা ছাড়া তাঁর আর কিছু করার ছিল না। রোগী যদি কারও সঙ্গে আপস করে সন্তান দিয়ে দেয়, সেটার জন্য তিনি দায়ী নন। তবে এই সাফাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে ধোপে টেকেনি।