প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার দাফনের প্রস্তুতি চলার সময়ই এক প্রতিবেশী বৃদ্ধা সুদের টাকা না পেলে মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে দাবি করেন। তিনি জোর করে মরদেহ আটকে রেখে সেই টাকা আদায় করেন। এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
জানা গেছে, দামুরহুদা উপজেলার চিতলা গ্রামের রাজমিস্ত্রি হারুন গত শনিবার তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোকে মারা যান। রবিবার সকালে তার মরদেহ গ্রামে আনা হলে শোকাহত পরিবার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিবেশী মর্জিনা খাতুন দাবি করেন, মৃত হারুনের কাছে তিনি সুদের ১৫,০০০ টাকা পান। সেই টাকা পরিশোধ না করলে মরদেহ দাফন করতে দেবেন না।
এ ঘটনায় গোটা গ্রামে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শোকাহত পরিবার মরদেহ পাশে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে মর্জিনা খাতুনের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে। অবশেষে স্বজনরা অত্যন্ত কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে মরদেহের খাটিয়ার উপর রাখেন। টাকা হাতে নিয়েই মর্জিনা খাতুন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে সমাজের জন্য লজ্জাজনক ও ঘৃণিত ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হারুন জীবিত থাকতেই আসল টাকা শোধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার মরদেহ আটকে সুদের টাকা আদায় করা চরম লজ্জাজনক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মর্জিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করছেন এবং গ্রামবাসীকে নানাভাবে হয়রানি করছেন।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সুদ কীভাবে মানুষকে অমানবিক করে তুলছে।