গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৫:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: মাথার খুলি ফ্রিজে, জ্ঞান ফেরেনি সায়েমের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র মামুন মিয়ার মাথার খুলির একাংশ খুলে ফ্রিজে রাখা হয়েছে এবং অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম এখনও জ্ঞান ফিরে পাননি।


মামুন মিয়ার জীবন-মৃত্যুর লড়াই

অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়ার মাথায় রামদার কোপ গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। আঘাত এত গভীর যে, তার মাথার খুলির একাংশ খুলে ফেলতে হয়েছে। খুলির ভাঙা অংশ বর্তমানে ফ্রিজে রাখা হয়েছে এবং তার মাথা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। সেখানে কালো কালিতে লেখা আছে, ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না।’ মামুনের বড় ভাই মাসুদ রানা জানিয়েছেন, মামুন কথা বলতে পারলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার দীর্ঘ সময় লাগবে এবং তাকে অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।


সায়েমের আশঙ্কাজনক অবস্থা

আহত অপর ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। অস্ত্রোপচারের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা জানিয়েছেন, সায়েমের খুলির ভেতরের অংশ এবং রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। সায়েমের বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন ছেলের এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বারবার তার ছেলেকে সংঘর্ষে না যেতে নিষেধ করেছিলেন।


ডা. সিরাজুল মোস্তফা জানান, মামুনের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি সুস্থ থাকলে দুই থেকে আড়াই মাস পর তার খুলি পুনঃস্থাপন করা হবে। কিন্তু তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।


উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে একটি ঘটনা থেকে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। এক ছাত্রী দেরিতে ভাড়া বাসায় ঢুকতে গেলে দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে তা গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ প্রায় ৪০০ জন আহত হন। সংঘর্ষে আহত তিন শিক্ষার্থী এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।