গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৯:৪০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

বুসানে ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ জিতে নিল কিরগিজ চলচ্চিত্র ‘কুরাক’

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের নতুন প্রবর্তিত ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ জিতেছে কিরগিজস্তানের চলচ্চিত্র ‘কুরাক’। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্রটির পরিচালক এরকে ঝুমাকমাতোভার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।


সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ভিশন এশিয়া’ শাখায় প্রতিযোগিতা করা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে 'কুরাক' এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।


জুলাই মেমোরিয়াল প্রবর্তনের উদ্দেশ্য
সামাজিক ন্যায়বিচার, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলতি বছর থেকে এই জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ প্রবর্তন করা হয়েছে। মূলত, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যেই এই পুরস্কারের সূচনা। পুরস্কারটির অর্থমূল্য হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রায় এক লাখ ওন প্রদান করা হয়।


'কুরাক' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, 'কুরাক' চলচ্চিত্রের কাহিনি শুরু হয় ২০২০ সালে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সংগঠিত একটি নারীবিক্ষোভের দৃশ্য দিয়ে। যেখানে পুরুষদের হামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তারের কারণে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপট থেকে কাহিনিটি দুই তরুণী—গোপন ওয়েবক্যাম মডেল মীরিম এবং সদ্য প্রেমে পড়া নারগিজার ব্যক্তিগত জীবনের দিকে প্রবাহিত হয়।


এই দুই তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাথে নারীর অধিকার আন্দোলন, প্রদর্শনী এবং পারফরম্যান্স আর্টের আর্কাইভ ফুটেজ যুক্ত হয়ে বর্তমান বাস্তবতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। চলচ্চিত্রটির নামের মতোই, 'কুরাক' (কিরগিজ ভাষায় যার অর্থ 'জোড়াতালি' বা 'প্যাচওয়ার্ক') এটি তুলে ধরে যে, কীভাবে বিভিন্ন নারীর কণ্ঠস্বর সম্মিলিতভাবে একতাবদ্ধ হয়ে নিপীড়নের প্রাচীর ভেদ করে একটি সুদৃঢ় বা মহান প্রতিবাদের জন্ম দেয়।