গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ০৩:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

বন্ধু ট্রাম্পের জন্য কিমের নয়া উপহার মার্কিন এফ-৩৫ বিধ্বংসী মিসাইল

 বিগত কয়েক দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। রাশিয়া ও চীনের ছায়া থেকে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও নতুন মিসাইল ও সমরাস্ত্র তৈরি করে চলেছে দেশটি। আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলাকে নিজেদের মূল লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে তারা।


এবার রাশিয়ার সহায়তায় ড্রোন ও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসে সক্ষম নতুন মিসাইল উন্মোচন করল উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য নতুন দুটি মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ং ইয়ং। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, গত শনিবার নতুন এই মিসাইল দুটির পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দুটি ড্রোন ও নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া দুটি ক্রুজ মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বিষয়টি উত্তর কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, নতুন এই মিসাইলে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। শত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে এগুলো খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মূলত মার্কিন অত্যাধুনিক স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের লক্ষ্যেই এই মিসাইল তৈরি করা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পুরনো কে-এন০৬ সিস্টেমের তুলনায় অনেক উন্নত। ধারণা করা হচ্ছে, এতে উন্নত রাডার নির্ভর বা দ্বৈত মোডের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।


এই মিসাইল পরীক্ষার সময়ে পিয়ং ইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে। জানা গেছে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে প্যান্টসির এস-ওয়ান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এই ব্যবস্থাগুলো ইতোমধ্যে পিয়ং ইয়ংয়ের আশপাশে এবং উত্তর কোরিয়ার নতুন নৌজাহাজগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে।


এর আগে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধান কিরিলু বোদানফ জানিয়েছিলেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কে-এনটু স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের ত্রুটি সংশোধনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে মিসাইলটির নির্ভুলতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া রাশিয়া সম্ভবত ইরানের শাহেদ-১৩৬ মডেলের মতো দূরপাল্লার ড্রোন উৎপাদনেও উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করবে।


উল্লেখ্য, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় উত্তর কোরিয়া একটি দলীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ওই সম্মেলনে দেশের সামরিক শক্তির যাবতীয় অগ্রগতি তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


অন্যদিকে, কোরিয় উপদ্বীপে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক গভীর হওয়ায় পারমাণবিক হামলার হুমকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।