প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, "বিএনপি বলে আমাদের জামাত আবার জামাত বলে আমাদেরকে বিএনপি, তার মানে এগুলোয় আমরা ঠিক পথে আছি। একটা সময় ডানপন্থীরা আমাদেরকে বামপন্থী বলত, আবার বামপন্থীরা আমাদেরকে ডানপন্থী বলত। তাহলে আমরা ঠিকভাবে আছি—মধ্যপন্থী।"
শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির জেলা কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "আমরা বিএনপি নই, আমরা জামাতও নই। কখনো কখনো সংস্কার নিয়ে আমাদের যে মৌলিক অবস্থান, সেই অবস্থানে কখনো বিএনপি আমাদের দিকে এসেছে, তখন মনে হয়েছে আমরা বিএনপির পন্থী। আবার কখনো জামাত আমাদের সাথে এসেছে, তখন মনে হয়েছে জামাত চলছে আমাদের পথে। কিন্তু আমরা কখনো আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করিনি।"
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "আমরা আমাদের জোটে কাকে নেব, সেটা নির্ধারণ করবে—কারা আমাদের সংস্কারের পক্ষে আছে, কারা ইনস্টিটিউশনাল রিফর্মেশন ও কন্সটিটিউশন রিফর্মেশনের পক্ষে আছে। '২৪ পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা যারা তৈরি করেছে, যারা এই বাংলাদেশ গড়তে চায়, আমরা তাদের সাথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। সুতরাং এই জোট নিয়ে যে কথাবার্তা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তবতা নেই।"
তিনি আরও বলেন, "অনেকে তো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছেন। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সময় এখন আপনারা বলছেন এটা ছিল, এটা ছিল না। তাঁদেরকে দেখাইছে একটা, স্বাক্ষর করছে আরেকটা। দেখাইছে জরিনা, এখন দিছে সকিনা। আমরা তো বলেছিলাম আগে দেখাতে হবে, আগে আমাদেরকে সনদ দেখাতে হবে। দেখানোর পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব—স্বাক্ষর করব কি না। তখন আপনারা আমাদের বিরোধিতা করেছিলেন। এখন তো আবার ঠিক পথেই আসছেন। এখন জরিনার কথা বলে সকিনার দিয়ে দেন, এই কথা শুনে যদি স্বাক্ষর করে দেন, এ দায় আমরা নেব কেন? আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, আপনি জরিনাকে দিন বা সকিনাকে দিন—আমাদের আগে দেখাতে হবে।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিপ্লবের সার্টিফিকেট নিতে গেলে যদি চুপ্পুর কাছ থেকে নিতে হয়, তার মানে আমি জাস্ট ছোট হাসিনার কাছ থেকে নেব। সার্টিফিকেট যদি নিতে হয় তাহলে ছোট হাসিনার কাছ থেকে নেব কেন? তাহলে ডাইরেক্ট হাসিনার কাছ থেকেই নেব। আসলে ওনারা বড়টার কাছ থেকেই নিতে চায়, কিন্তু বলতে পারে না—এই কারণে চুপ্পুর কাছ থেকে নিতে চায়। এই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।"
তিনি আরও বলেন, "চুপ্পুর কাছ থেকে যদি জুলাই-এর সার্টিফিকেট নিতে হয়, এর চাইতে আমাদের সবাইকে বিষ খেয়ে মরে যাওয়া ভালো। আমাদের সবার একসাথে মরে যাওয়া ভালো। আমি তো বাদ, একজন যদি আহত যোদ্ধাকে বলেন, চুপ্পুর কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে, রাজি করাতে পারবেন না।"
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও বরিশাল বিভাগীয় সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।
সভাপতিত্ব করেন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও প্রধান সমন্বয়কারী (পটুয়াখালী জেলা) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা।