গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০১:২৯ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

বাংলাদেশকে টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগোতে এখনই পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানির পথে এগোতে হবে। এতে দেশ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।


অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করে থাকতে পারবে না। এখন সময় এসেছে বিকল্প জ্বালানি নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবার। বিশেষ করে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান।


গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ বৈঠকে বলেন, আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও হাইব্রিড সিস্টেম ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য ও শূন্য কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তাঁর দাবি, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয় এবং বাংলাদেশের মতো শিল্পোন্নয়নশীল দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা কয়েক দশক ধরে মেটাতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, এখন আর পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে ‘নিষিদ্ধ বিষয়’ নয়। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। কার্ল পেজের মতে, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড রয়েছে এবং দেশটি চাইলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ ও শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা বাড়বে।


প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে, যেখানে সৌরশক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই এসব সম্ভাবনা বিবেচনা করব। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক গবেষণা জরুরি। একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব।”