প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫ , ১০:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ
পাঁচ দিন ধরে বাঙালি মনকে যে আনন্দের ভেলায় ভাসিয়েছিল শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ বিজয়া দশমীর সেই বেলাশেষে সেই উৎসবের আলো নিভতে চলেছে। প্রতিমার বিসর্জন যেন আনন্দ-নদীর তীরে এক বিষাদের সুর। গত রবিবার যে মাতৃমূর্তি এলেন গজে চড়ে, আজ বৃহস্পতিবার তিনি বিদায় নিচ্ছেন দোলায় দুলে, রেখে যাচ্ছেন এক বছরের অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস।
আজ সকালে দেবীর দশমী বিহিত পূজা দিয়ে শুরু হবে বিসর্জন পর্বের শেষলগ্নের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মা দুর্গার প্রতিমা জলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ জানান, ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দশমীর পূজা শুরু হবে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে। দর্পণ বিসর্জনের পর দুপুর ১২টায় শুরু হবে স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি, যা প্রতি বছরই বিজয়ার দিনে মানবিকতার এক নতুন রঙ ছড়ায়।
প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিশাল শোভাযাত্রা শুরু হবে বেলা তিনটা থেকে। মহানগরীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা এনে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক মোহনায় মিলবে। এরপর সন্ধ্যা নাগাদ বুড়িগঙ্গার ঘাটে সেই প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে, যেন মা ফিরে যাবেন কৈলাসে।
সিঁদুরখেলা: রাঙা হলো সিঁথির আকাশ
আজ বিজয়া দশমীতে অনেক মন্দিরেই এক বিশেষ আনন্দ-আচার সিঁদুর খেলার আয়োজন। দর্পণ বিসর্জনের পর বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর দান করে সেই সিঁদুরই যেন সারা বছরের জন্য সৌভাগ্যের টিপ করে নেন। এরপর তাঁরা একে অপরের কপাল ও চিবুকে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন. এই দৃশ্য যেন রাঙা করে তোলে সিঁথির আকাশ। পূজা আয়োজকেরা নিশ্চিত করেছেন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বনানী মণ্ডপ এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মণ্ডপেও এই সিঁদুর খেলার রঙিন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।